সাইবার ঝুঁকি প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও দক্ষ হতে হবে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য
ডেইলি সান রিপোর্ট, গাজীপুর
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই হবে না, সাইবার ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ করা এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত ‘এনহ্যান্সিং সাইবার সিকিউরিটি ক্যাপাবিলিটি অব ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফিসিয়ালস শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটির উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের নির্ভরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ও নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্যই আমরা ‘ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার’ স্থাপন করতে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে অ্যাপেক্স বডি হিসেবে আমরা সারাদেশে সংশ্লিষ্টদের সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে চাই। শুধু তাই নয়, এক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্বের আসনে থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।
প্রযুক্তি ব্যবহারের সাথে সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমকে নিরাপদ ও আধুনিক করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নাজমুল হোসাইন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটির প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ বিন কাশেম।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, ‘‘সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল আইসিটি বিভাগের দায়িত্ব নয়; প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই এর সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ পাসওয়ার্ড ব্যবহার থেকে শুরু করে সন্দেহজনক লিংক বা ই-মেইল শনাক্ত ও বর্জন করা, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং অনলাইনে দায়িত্বশীল আচরণ—প্রতিটি বিষয়ই প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।”
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় সাইবার নিরাপত্তা, সাইবার জালিয়াতি এবং সাইবার অপরাধের আইনগত কাঠামো নিয়ে তিনটি টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সেশনে ‘প্রটেক্টিং ইওর ডিভাইসেস অ্যান্ড নেটওয়ার্ক সিস্টেমস ফ্রম সিকিউরিটি থ্রেটস’ বিষয়ে মূল আলোচক ছিলেন সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাইবার ফরেনসিক প্রসিকিউটর, বিইউবিটির সহযোগী অধ্যাপক তানভীর হাসান জোহা। দ্বিতীয় সেশনে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং সাইবার ফ্রডস এন্ড সিকিউরিটি’ শীর্ষক আলোচনা উপস্থাপন করেন সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম।
তৃতীয় সেশনে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং দ্য লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক রিলেটেড টু সাইবার সিকিউরিটি এন্ড সাইবার ক্রাইমস’ বিষয়ে আলোচনা করেন পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক খাতুনে জান্নাত। কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।