EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মাদকের গডফাদার যে দলেরই হোক, ধরতে যেন হাত না কাঁপে: আইনমন্ত্রী

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ এএম

মাদকের গডফাদার যে দলেরই হোক, ধরতে যেন হাত না কাঁপে: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

বাগেরহাটে মাদক কারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় না দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, মাদক কারবার বা মাদকের গডফাদার হিসেবে সরকারদলীয় কিংবা বিরোধী কোনো নেতার সম্পৃক্ততা থাকলে তাঁকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি যত শক্তিশালীই হোন না কেন, এমনকি তাঁর নিজের রাজনৈতিক দল বিএনপির কোনো নেতাও যদি অপরাধীকে পৃষ্ঠপোষকতা করার চেষ্টা করেন, তাঁর বিরুদ্ধেও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করতে হবে। আইন নিজস্ব গতিতে চলবে, এখানে কোনো পক্ষপাত থাকবে না।

নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি একটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আসে। পুলিশ তাঁকে বিষয়টি জানালে তিনি ওই নেতাকে গ্রেপ্তারের কথা বলেন। পরে তাঁর মাদক সেবনের পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় তাঁকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মীর প্রথম শর্ত নৈতিকভাবে স্বচ্ছ থাকা। মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে ছাড় পেতে পারেন না। মাদক কারবারে জড়িত সবার বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জামিন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, কাউকে জামিন দেওয়া বা না দেওয়া আদালতের বিষয়। তবে ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করে জামিন নেওয়া বা দেওয়ার চেষ্টা কিংবা জামিন ঠেকাতে বেআইনি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় গত ১৬-১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, গুম ও ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে চার হাজারের বেশি বিএনপি নেতাকর্মী গুম ও ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৭০০ জনকে গুম করা হয়েছে। এসব সংখ্যা তাঁর বক্তব্যের দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আইনজীবী সমিতির নেতা, জেলা বিএনপির নেতাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন