নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে জনসচেতনতা ও পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা ও খাদ্যপণ্য পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেছেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আফরোজা খানম বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে তারা কী ধরনের খাদ্য গ্রহণ করছে তার ওপর। তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষায় পাওয়া বিভিন্ন তথ্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করা প্রয়োজন। প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয় সম্পর্কে ভোক্তাদের সঠিক তথ্য জানাতে হবে এবং খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে।
দেশের আটটি বিভাগে থাকা মোবাইল ল্যাব পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় মোবাইল ল্যাবের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এতে ঘটনাস্থলেই খাদ্যপণ্যের প্রাথমিক পরীক্ষা করা সম্ভব হবে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
বিএফএসএর নিজস্ব ল্যাবরেটরি ভবন নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ল্যাবরেটরি পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে। নিজস্ব অবকাঠামো তৈরি করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের ব্যয় কমবে এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন মানসম্মত খাদ্য পরীক্ষাগার গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
খাদ্যপণ্যের পরীক্ষায় দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য খাদ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁদের উত্থাপিত দাবিগুলো যৌক্তিক। পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “আমি আপনাদের মন্ত্রী হিসেবে নয়, সহকর্মী হিসেবে দেখতে চাই। আমরা সবাই মিলে কাজ করব।” খাদ্য মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং দেশের মানুষের কাছে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।
বিদেশে প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া কর্মকর্তাদের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশে ফিরে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান খাদ্যমন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় খাদ্যসচিব বলেন, বিএফএসএর ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে সমস্যা সমাধানের অপেক্ষায় বসে না থেকে দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপদ রাখতে কর্তৃপক্ষের বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে।
সভায় বিএফএসএর সচিব শ্রাবস্তী রায়, চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলামসহ কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। এ সময় কর্তৃপক্ষের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করা হয়।
এর আগে খাদ্যমন্ত্রী বিএফএসএর মিনি ল্যাব (মোবাইল ভ্যান) ও ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে মিনি ল্যাব ও ল্যাবরেটরির কার্যক্রম এবং খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে অবহিত করেন।