গান ও শিল্পীর শক্তি স্বৈরতন্ত্রকে নাড়িয়ে দিতে পারে: রিজভী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
সাংস্কৃতিক বাহিনী ছাড়া কোনো আন্দোলন সফল হয় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, একটি গান বা গানের একটি কলি সমাজ ও রাষ্ট্রে সুনামির চেয়েও বেশি তরঙ্গ তৈরি করতে পারে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘একজন নেতার কথা বলছি’ শীর্ষক গানের সিডির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা’ কিংবা ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’—এ ধরনের একটি গান বা কলিও সমাজে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আসামে একটি গানের কারণে একজন শিল্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কারণ, সেখানে কট্টরপন্থী সরকার ছিল।
রিজভীর ভাষ্য, একটি গান বা একজন শিল্পীর শক্তি কয়েকটি এটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। সেই শক্তি স্বৈরতন্ত্রকে নাড়িয়ে দিতে পারে।
তিনি বলেন, যে রাজনৈতিক দল বা আন্দোলনে সাংস্কৃতিক কর্মীদের বাহিনী থাকবে না, সেই আন্দোলন কখনো সফল হবে না। বড় বড় মনীষীরাও এ কথা বলেছেন। প্রতিটি বৃহত্তর স্বাধীনতার সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবে সাংস্কৃতিক বাহিনী মূল সৈনিকের ভূমিকা পালন করে।
রিজভী বলেন, সাংস্কৃতিক বাহিনী প্রতিটি আন্দোলনের অগ্রগামী ও অগ্রসেনানী। তারা সুসংগঠিত না থাকলে আন্দোলন সফল হয় না।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ফ্যাসিস্টদেরও সাংস্কৃতিক দল ও সাংস্কৃতিক কর্মী ছিল বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট শাসকদের সঙ্গে অনেক বড় সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পী ছিলেন। তবে শিল্পী হলেই যে মানবতাবাদী হতে হবে, তা নয়।
রিজভী বলেন, ‘আজকে রোকেয়া প্রাচীরা শেখ হাসিনার গুণগান গাইছে এবং বহু চক্রান্তের মধ্যে তারা জড়িত হচ্ছে। ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন, হুমায়ূন আহমেদের ছোট স্ত্রী কী ধরনের ভূমিকা পালন করেছে?’
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হলেই তার মন উদার ও মানবতাবাদী হবে না বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তার মতে, যার মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গুণাবলি রয়েছে, তিনিই প্রকৃত সাংস্কৃতিক ব্যক্তি।
রিজভী বলেন, ‘গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাহি মহীয়ান’—নজরুলের এই আদর্শ ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে রয়েছে, তিনিই প্রকৃত অর্থে শিল্পী।
তিনি আরও বলেন, অনেক শিল্পীর মধ্যে এসব গুণ না থাকলে তারা ফ্যাসিবাদের দোসর হতে পারেন। আহনাফ, মুগ্ধ ও আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের শরীর থেকে ঝরা রক্ত এবং সাদা শার্ট রক্তে লাল হওয়ার দৃশ্য ওই শিল্পীরা দেখেননি।
জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং গীতিকার-সুরকার ইথুন বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জল, শাম্মী আক্তার এমপি ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জাসাসের সদস্য খালেদ এনাম মুন্না।