EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

দেড় বছরের শিশুকে হত্যার অভিযোগ, ৮০ হাজার টাকায় রফাদফার প্রস্তাব

ডেইলি সান রিপোর্ট, লক্ষ্মীপুর

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

দেড় বছরের শিশুকে হত্যার অভিযোগ, ৮০ হাজার টাকায় রফাদফার প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দেড় বছরের শিশুকে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ থাকার পর ৮০ হাজার টাকায় রফাদফার প্রস্তাব দিলো অভিযুক্তের পরিবার। লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে নিজের শিশু সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার এ অভিযোগ করেছেন তার বাবা মো. আব্বাস হোসেন ও মা রীনা আক্তার। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তারা।

তাদের অভিযোগ, প্রতিবেশী জান্নাত বেগম (৫০) শিশু রোহানকে গলাটিপে হত্যা করে মৃতদেহ গুমের চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন দেখে ফেলায় 'পানিতে পড়ে মারা গেছে’ বলে প্রচার করে। তবে ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে ৮০ হাজার টাকায় রফাদফা প্রস্তাব দেওয়া হয় অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে।

এ ঘটনায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কমলনগর আদালতে মামলা করেছেন আব্বাস। এতে জান্নাত বেগম ও তার স্বামী মো. জামাল (৫৪), ছেলে নিহাদ (১১) ও জিহাদকে (১৮) অভিযুক্ত করা হয়। 

আব্বাস হোসেন বলেন, গত ১৯ জুলাই আমি সমুদ্রে মাছ শিকারে ছিলাম৷ এদিন দুপুর ৩ টার দিকে জান্নাত বেগমের ছেলে নিহাদ আমার শিশুপুত্র রোহানকে খেলাধুলার কথা বলে ঘর থেকে নিয়ে আসে। এরপর তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিকেলে ৫ টার দিকে জান্নাত শিশু রোহানের মৃতদেহ নিয়ে আসে। রোহান 'পানিতে পড়ে মারা গেছে' বলে তিনি আমার স্ত্রীকে জানান। এটা শুনে আমার স্ত্রী অজ্ঞান হয়ে যায়।

আব্বাসের অভিযোগ, তার শিশুপুত্রকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। মৃতদেহ প্রথমে গর্ত করে লুকিয়ে রাখতে চেয়েছে জান্নাত। প্রতিবেশী নারীরা সেটি দেখে ফেলায় মৃতদেহ লুকাতে পারেনি। 'পানিতে পড়ে মৃত্যু হয়েছে' জানিয়ে লাশটি আমাদের কাছে ফেরত দেয়। 

হত্যার কারণ হিসেবে তিনি দাবি করেন, ঘটনার কয়েকদিন আগে জান্নাতের ছেলে নিহাদ শিশু রোহানের মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে আকবর নামে এক ব্যক্তির দোকানের গদির নীচে লুকিয়ে রাখে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জান্নাতের সাথে তাদের ঝগড়া হয়। ওই ঝগড়ার সূত্র ধরে প্রতিশোধ নিতে জান্নাত ঘটনাটি ঘটিয়েছে। 

তিনি জানান, তার ছেলের মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আসামিপক্ষের আত্মীয় আকবর হোসেন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে এ প্রস্তাব দেয়।

আব্বাসের দাবি, এসব ভয়েস রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ নিয়ে কমলনগর থানায় অভিযোগ করেও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি। তাই আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।


এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, ঘটনাটি তার জানা নেই। এর আগে কেউ তাকে এ বিষয়টি জানায়নি।

আরও পড়ুন