EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ধর্মান্তরিত শুভর দাফন নিয়ে জটিলতা, হাইকোর্টের নির্দেশে ইসলামী রীতিতে দাফন

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪০ এএম

ধর্মান্তরিত শুভর দাফন নিয়ে জটিলতা, হাইকোর্টের নির্দেশে ইসলামী রীতিতে দাফন

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ধর্মান্তরিত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালের মরদেহের শেষকৃত্য নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে ইসলামী রীতিতে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে পুলিশি পাহারায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে নারায়ণগঞ্জ শহরে গুলিতে নিহত হন শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লাল। মৃত্যুর পর তার মরদেহের শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। নিহতের সনাতন ধর্মাবলম্বী বাবা হিন্দু রীতি অনুযায়ী ছেলের সৎকারের দাবি জানান। অন্যদিকে স্ত্রী, মা, ভাই ও বোন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন জানিয়ে বিল্লালের মরদেহ ইসলামী রীতিতে দাফনের দাবি করেন।

এ ঘটনায় বিল্লালের স্ত্রী জ্যোতি হাইকোর্টে রিট করেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মুহাম্মদ ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের বেঞ্চে রিটের শুনানি হয়। পরে রোববার হাইকোর্ট বিল্লালের মরদেহ তার স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তর করে ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দেন।

পরিবারের দাবি, ২০০৩ সালের ২৬ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা এফিডেভিটে শুভ, তার মা পার্বতী রাণী দাস ও ভাই সজীব চন্দ্র দাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে শুভর নাম রাখা হয় মো. বিল্লাল। তিনি মাদ্রাসায়ও পড়াশোনা করেন।

পরবর্তীতে রূপগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের মেয়ে জ্যোতিকে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে করেন বিল্লাল। তাদের দুই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। মরদেহের শেষকৃত্য নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় এত দিন বিল্লালের মরদেহ পুলিশের তত্ত্বাবধানে হিমঘরে রাখা হয়েছিল।

হাইকোর্টের আদেশের পর মরদেহটি স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশি পাহারায় মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে ইসলামী রীতি অনুযায়ী তাকে দাফন করা হয়।

বিল্লাল হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ইসলামী রীতি অনুসরণ করে শুভর মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

এদিকে নিহতের মা আয়েশা বেগম বলেন, ‘আমি সন্তান হারিয়ে এতিম হয়েছি। দেড় বছরের আমার নাতিকে যারা এতিম করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমার ছেলেকে যে গুলি করে হত্যা করেছে, তার ফাঁসি চাই।’

আরও পড়ুন