আজই জাতীয় গ্রিডে ফিরছে আদানির বন্ধ ইউনিট
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২ আজ রবিবার জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে ফিরছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি বেড়ে যায়। এতে লোডশেডিংও বাড়ে।
আদানি পাওয়ার আজ রবিবার সকালে পাঠানো এক বার্তায় জানিয়েছে, ইউনিট-২ ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে বাংলাদেশ সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই সফলভাবে চালু করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডে সিনক্রোনাইজ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দুপুরের আগেই ইউনিটটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) সূত্র জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে ঘণ্টায় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহ নেমে আসে ৭৫৮ মেগাওয়াটে।
এর আগেও কয়লা সরবরাহ সংকটে গোড্ডা কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে যায়। ঝড়ের কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটিতে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। পরে আগস্টের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ বাড়লে উৎপাদনও বাড়তে শুরু করে।
দিনের বেলায় কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। উৎপাদন বাড়ার পরই একটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।
আদানি কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার সময় দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থাও চাপে ছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় প্রায় ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট।
ফলে ওই সময় বিদ্যুতের ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। ওই দিন গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ২ হাজার ৬৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।
চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড রয়েছে। ফলে বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন।
