EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

দেশে বাতরোগে আক্রান্ত ৩০ শতাংশ মানুষ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

দেশে বাতরোগে আক্রান্ত ৩০ শতাংশ মানুষ
অ অ

বাংলাদেশে বাতরোগ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলায় এর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বহু পরিবার। একদিকে চিকিৎসার ধারাবাহিক খরচ, অন্যদিকে আক্রান্ত ব্যক্তির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার ক্রমাগত দারিদ্র্যের মুখে পড়ছে। অসংক্রামক ব্যাধির ঝুঁকির তালিকায় বাতরোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা এখনো উপেক্ষিত।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে প্রফেসর নজরুল রিউমাটোলজি ফাউন্ডেশন এন্ড রিসার্চ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘১০ম রোগী শিক্ষা কার্যক্রম ও ১ম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে’ বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানান।

সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৫ সালের জাতীয় পর্যায়ের এক গবেষণা অনুযায়ী দেশের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ বাতরোগে আক্রান্ত। এদের মধ্যে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হন এবং ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ বছরের কোনো না কোনো সময় কাজের ক্ষমতা হারান। এর আগে আঞ্চলিক এক জরিপেও ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের হাড় ও পেশির ব্যথায় ভোগার তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া দেশে অস্টিওপোরোসিসের প্রকোপ ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ মানুষ এতে আক্রান্ত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটে অসংক্রামক ব্যাধিতে। তবে জাতীয় নীতিমালায় দীর্ঘমেয়াদি পঙ্গুত্ব সৃষ্টিকারী এই বাতরোগ এখনো উপেক্ষিত, আর প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশে বিশেষজ্ঞ রিউম্যাটোলজিস্টের সংখ্যাও সীমিত।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিএনআরএফআর ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নীরা ফেরদৌস। তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যয় ও আক্রান্তের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার দ্বিগুণ আর্থিক বোঝা পরিবারগুলোকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। তার তথ্য অনুযায়ী, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে বছরে ৪০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা এবং স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিসে ৪০ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। হাঁটু প্রতিস্থাপনে দেড় লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা এবং হিপ ফ্র্যাকচার অস্ত্রোপচারে ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়।

পিএনআরএফআর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও বাতব্যথা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সময়মতো নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে বহু রোগী স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করছেন, যা তাদের কাজের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, রোগীদের অসচেতনতা, চিকিৎসা ব্যয়ের সামর্থ্যের অভাব এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সুসংগঠিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতাই সুচিকিৎসার প্রধান বাধা।

আরও পড়ুন