রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি বারভিডার
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নির্দিষ্ট বয়সসীমা ও কারিগরি সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ন্ত্রিত ও শর্তসাপেক্ষে আমদানির সুযোগ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
বারভিডা বলেছে, গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত নতুন আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে তুলনামূলক কম দামে নতুন প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ থেকে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংগঠনটির দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভির আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে। জাপান থেকে টয়োটা, নিশান, সুবারু, লেক্সাস ও হোন্ডাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ি এবং চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে ইভি রপ্তানি বাড়ছে।
বারভিডা জানায়, কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ ১০ বছর, জর্জিয়ায় ৬ বছর, কেনিয়ায় ৮ বছর, সৌদি আরবে ৫ বছর, পাকিস্তানে ৩ বছর এবং শ্রীলঙ্কায় ৫ বছর বয়সী ব্যবহৃত ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে।
মানববন্ধনে বারভিডার পক্ষ থেকে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ব্যবহৃত ইভি আমদানির অনুমতি, ব্যাটারির ন্যূনতম ‘স্টেট অব হেলথ’ (এসওএইচ) ৭০ শতাংশ নির্ধারণ এবং আমদানির আগে অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে গাড়ি পরিদর্শন ও প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার দাবি রয়েছে।
এ ছাড়া বন্যা, অগ্নিকাণ্ড, গুরুতর দুর্ঘটনা বা কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি আমদানি নিষিদ্ধ করা এবং ইভি ব্যাটারির নিরাপদ পুনর্ব্যবহার ও নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং, ব্যাটারি ডায়াগনস্টিক ও রিসাইক্লিং খাতে বিনিয়োগে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা এবং ইলেকট্রিক গাড়ির জন্য চলতি বাজেটে নির্ধারিত শুল্ক-কর কাঠামো সংশ্লিষ্ট খাতের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিকভাবে পুনর্নির্ধারণেরও দাবি জানিয়েছে বারভিডা।
সংগঠনটির মতে, নতুন ইভির দাম মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। তুলনামূলক কম দামে রিকন্ডিশন্ড ইভি বাজারে এলে সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার প্রসার ঘটবে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে মোটরযান খাতে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও তা সহায়ক হবে।
মানববন্ধনে বারভিডার সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজ রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তাদের আবেদন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে সরকার ইভি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রিয়াজ রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাতের ব্যবসায়ীদের পেশা ও বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং বৃহত্তর ক্রেতাগোষ্ঠীর স্বার্থে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হবে বারভিডা।
মানববন্ধনে বারভিডার সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল মান্নান চৌধুরী খসরু, মো. হাবিব উল্লাহ ডন, সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।