EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

নাসিরনগরে তিতাস নদী থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ডেইলি সান রিপোর্ট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৩ এএম

নাসিরনগরে তিতাস নদী থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: নিহত হাবিবুর রহমান

অ অ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে তিতাস নদীর নয়াগাং থেকে ভাসমান অবস্থায় হাবিবুর রহমান (৩৮) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সৌদি আরব যাওয়ার প্রশিক্ষণ শেষে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন হাবিবুর রহমান। পথিমধ্যে তার মুঠোফোন থেকে পরিবারের কাছে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এরপর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। নিখোঁজের সাত দিন পর তিতাস নদীর নয়াগাং থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে গিয়ে হাবিবুরের মরদেহ শনাক্ত করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাসিরনগরের হরিপুর এলাকায় নয়াগাংয়ে ভাসমান অবস্থায় পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

নিহত হাবিবুর রহমান নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নের কালিউতা গ্রামের মৃত আব্দুল সামাদের ছেলে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরব যাওয়ার প্রশিক্ষণের জন্য হাবিবুর ঢাকায় যান। পরদিন সন্ধ্যায় ঢাকার কাজ শেষ করে ট্রেনে করে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। পরিবারের সদস্যদের ফোন করে তিনি জানান, ট্রেনে উঠবেন। দেরি হওয়ায় সবাইকে ঘুমিয়ে যেতে বলেন। পরে নোয়াপাড়া স্টেশনে নামবেন বলেও জানান তিনি। তবে নোয়াপাড়ার পরিবর্তে শায়েস্তাগঞ্জে নামেন হাবিবুর।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাবিবুরের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে পরিবারের কাছে ফোন আসে। ফোনে তাদের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও হাবিবুরের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। কিছুক্ষণ পর মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে নাসিরনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে সামাজিক মাধ্যমে নদী থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহটি হাবিবুরের বলে শনাক্ত করেন।

নিহতের শ্যালক কমল মিয়া বলেন, আমাদের ধারণা, অপহরণের পর মুক্তিপণের জন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

নাসিরনগর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, গতকাল পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

ওসি আরও বলেন, এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপহরণ কিংবা অর্থের জন্য হত্যার অভিযোগের বিষয়টিও তদন্ত করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্ত শেষে হাবিবুর রহমানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন