EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ফেসবুকে প্রতারণা চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার সাড়ে ৪ লাখ টাকার স্বর্ণ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

ফেসবুকে প্রতারণা চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার সাড়ে ৪ লাখ টাকার স্বর্ণ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে স্বর্ণালংকার আত্মসাৎকারী চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত এক আসামির থেকে আনুমানিক ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গ্রেপ্তার জিয়াসমিন আক্তারের (২১) বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার ফকিরটিলা এলাকায়। তার পিতার নাম মো. চুনু মিয়া। অপরজন হলেন একই এলাকার মো.আব্দুল্লাহ মিয়া (৬৬)। তার পিতার নাম মৃত তাহের মিয়া সরদার।

সিআইডি ঢাকা মেট্রো-পূর্ব ইউনিটের একটি অভিযানকারী দল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানাধীন ফকিরটিলা এলাকায় এক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার আসামি জিয়াসমিন আক্তারের কাছ থেকে ১টি স্বর্ণের আংটি এবং লকেটসহ ০১টি স্বর্ণের চেইন জব্দ করা হয়। জব্দ করা ২১.৮৩ গ্রাম ওজনের স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা প্রতারণার ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধারের চেষ্টা চলমান রয়েছে। আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, চক্রটি ফেসবুক পেজে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়ে দুরারোগ্য রোগসহ নানা সমস্যার চিকিৎসার কথা বলে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতো। বিজ্ঞাপন দেখে কেউ যোগাযোগ করলে তাদের নানান সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হতো। পরে তারা ভুক্তভোগীর বাসায় গিয়ে বিভিন্ন ঝাড়-ফুঁক ও আচার করে বিশ্বাস অর্জন করতো।

একপর্যায়ে চিকিৎসার অংশ হিসেবে বাসায় থাকা সোনা-গয়না একসঙ্গে করতে বলে সেগুলো রুমালে নিয়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখা এবং সেই পানি পুরো ফ্ল্যাটে ছিটানোর মতো নানা কৌশলে চিকিৎসা চালাতেন। এ সময় সুযোগ বুঝে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যেত চক্রের সদস্যরা।

এমন প্রতারণার শিকার হয়ে একজন ভুক্তভোগী শাহজাহানপুর (ডিএমপি) থানায় গত ২ সেপ্টেম্বর পেনাল কোডে মামলা করেন। সিআইডি মামলার দায়িত্ব নিয়ে তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতারণার চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে। একই সঙ্গে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ফেসবুক পেজ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানাধীন ফকিরটিলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জিয়াসমিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার আসামি মোঃ আব্দুল্লাহ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি চক্রটির ব্যবহৃত ফেসবুক পেজটি শনাক্ত করে। তদন্তে ওই পেইজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পেইজ ও ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায় এবং তাদেরও তদন্তের আওতায় আনা হয়।

তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডি চক্রের সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরই ধারাবাহিকতায় একই রাতে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানাধীন ফকিরটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিয়াসমিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আব্দুল্লাহ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন