বিরোধীদলের ডিসেম্বরে সরকার পতনের হুমকি ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ: প্রিন্স
ডেইলি সান রিপোর্ট,ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, ডিসেম্বরে পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পাশাপাশি বিরোধী দলও সরকার পতনে এক দফার আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। এ কারণে ডিসেম্বরকে ঘিরে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাখিবন্ধনের পুনরাবৃত্তি ২০২৬ সালেও হলো কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার শাকুয়াই ইউনিয়নের ঘোনাপাড়ায় এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। কংশ নদীর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে গ্রামবাসীর সঙ্গে এই সভার আয়োজন করা হয়।
মতবিনিময় সভার আগে নদীভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করেন এমরান সালেহ প্রিন্স।
সভায় এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বিএনপি সরকার যেখানে জনকল্যাণে নিয়োজিত, সেখানে বিরোধী দল জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। ছয় মাস বয়সী নির্বাচিত সরকারকে এক দফার হুমকি দিয়ে তারা গণবিরোধী অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের মধ্যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি অপচয় করে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচি জ্বালানি সমস্যা আরও তীব্র করছে। একই সঙ্গে সৃষ্টি করছে জনদুর্ভোগ।
লংমার্চ কর্মসূচিতে এক দফার হুমকি এবং উসকানিমূলক স্লোগান ও বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিবাদের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের ছয় মাসের সরকার নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশ পুনর্গঠন করছে। এমন সময়ে ডিসেম্বরে সরকার পতনের হুমকি ষড়যন্ত্র ও দুরভিসন্ধির বহিঃপ্রকাশ।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ছয় মাস বয়সী সরকারকে ছয় দফা এবং এক বছরের মাথায় এক দফার আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হুমকিদাতাদের জেনে রাখা উচিত, বিএনপি রাজপথ কাউকে ইজারা দেয়নি। রাজপথ বিএনপির অচেনা নয়।
তিনি বলেন, বিএনপিকে ভয় দেখিয়ে, হুমকি দিয়ে কিংবা এক দফার আলটিমেটাম দিয়ে কোনো লাভ হবে না। বিএনপি ভেসে আসা কোনো দল নয়। বিএনপি এ দেশের জনগণের দল। জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে প্রয়োজন হলে বিএনপি আবারও রাজপথে নামবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণ যাকে ভোট দিয়ে দায়িত্ব দিয়েছে, তারা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ না করলে জনগণই ভোটের মাধ্যমে তাদের পরিবর্তন করবে। রাজপথে হুমকি দিয়ে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কিংবা ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার পতনের আলটিমেটাম দিয়ে জনগণের রায় কেড়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
কংশ নদীর ভাঙন প্রসঙ্গে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, শাকুয়াই ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ভাঙনে রাস্তা, বসতভিটা, ফসলি জমি ও মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি পানি সম্পদমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ড শাকুয়াই এলাকায় নদীর তীর রক্ষায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
ঘোনাপাড়ায় কংশ নদীর পাড়ে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন শাকুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও বিএনপি নেতা আবুল হাসেম।
সভায় বক্তব্য দেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্যসচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, শাকুয়াই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইউনুস আলী খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্বদেশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, আমতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সফিকুর রহমান, বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেন, সায়েদুল ইসলাম ও মোতালেব হোসেন।
এ ছাড়া স্থানীয় মুরব্বি আব্দুল হেকিম, যুবক জুয়েল রানা, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, উপজেলা যুবদল নেতা আবু নাসের, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম আর আল আমিন এবং পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব তাজবীর হোসেন অন্তরসহ অনেকে বক্তব্য দেন।