কারাগার থেকে পালিয়ে ঘুরছেন ৫২ ফাঁসির আসামি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৫২ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের অনেকেই দুই বছরের বেশি সময় ধরে মুক্ত অবস্থায় রয়েছেন। পলাতকদের কেউ হত্যাকাণ্ড, সংঘবদ্ধ অপরাধ কিংবা জঙ্গিবাদের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত।
কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৯৯ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ৫২ জন এখনো পলাতক। তাদের অনেকে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছেন, নিয়মিত অবস্থান বদল করছেন এবং আত্মগোপনে থাকতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অস্থির সময়ে দেশের অন্তত ১৭টি কারাগারে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিভিন্ন কারাগার থেকে ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দি পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে ৬৯০ জন এখনো গ্রেপ্তার হননি।
কারা অধিদপ্তর সূত্র আরও জানায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে ২০২ জন বন্দি পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে ৮৮ জন ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
পলাতক বন্দিদের মধ্যে জঙ্গি সদস্যও রয়েছেন। বিভিন্ন কারাগার থেকে নয়জন জঙ্গি পালিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তিনজন এখনো পলাতক। এ ছাড়া কারাগার থেকে পালানো ও জামিনে বের হওয়া কয়েকজন জঙ্গির সাম্প্রতিক বোমা উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) তথ্য অনুযায়ী, জেএমবির ১৮৫ জন, আনসার আল ইসলামের ৮৩ জন, হিযবুত তাহ্রীরের ৫৯ জন, হুজি-বির ১৬ জন, নব্য জেএমবির ১৬ জন, আল্লাহর দলের ৯ জন, জামাআতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার একজন এবং ইমাম মাহমুদের কাফেলার একজন সদস্য পলাতক রয়েছেন।
কারাগার থেকে পালানো বন্দিদের মধ্যে ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৮ হাজার ১৫ রাউন্ড গুলি লুট হয়েছিল। পরে ৫৮টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এখনো ২৭টি অস্ত্র ও ৬ হাজার ৩৫২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়নি।
অপরাধ বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে ফেরানোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। অনেকে দেশ ছেড়ে থাকতে পারেন, আবার কেউ কেউ আত্মগোপনে থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।
তিনি বলেন, এসব বন্দি যতদিন বাইরে থাকবেন, ততদিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকবে। তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা না গেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতিতে কারাগার থেকে পালানোর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকবে।
সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, পলাতক বন্দিদের গ্রেপ্তারে অভিযান আরও জোরদার করা উচিত। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকেও কাজে লাগানো যেতে পারে।
কারা অধিদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মাসুদ হাসান জুয়েল বলেন, বন্দি পালানোর ঘটনার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ বিষয়ে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, কারাগার থেকে বন্দিরা পালানোর পর থেকেই এটিইউকে বিশেষভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সংস্থাটি বন্দিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে এবং অনেককে গ্রেপ্তারও করেছে। পলাতকদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন