EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বেতন গ্রেড অবনমনের প্রতিবাদে বিএডিসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন, কর্মবিরতি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

বেতন গ্রেড অবনমনের প্রতিবাদে বিএডিসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন, কর্মবিরতি
অ অ

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন গ্রেড এক ধাপ কমানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করেছেন সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর দিলকুশায় বিএডিসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র বাতিলের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন তারা। এর মধ্যে দেশের সব কার্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির কথাও জানানো হয়েছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, গত ৩১ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয় বিএডিসির ৯১টি ক্যাটাগরির ৪ হাজার ৬৯৯টি পদের বেতন গ্রেড ও আনুষঙ্গিক বিষয় নির্ধারণ করে একটি পরিপত্র জারি করেছে। এতে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নির্ধারিত বেতন গ্রেড এক ধাপ কমানো হয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

পরিপত্র জারির পর থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। তাদের ভাষ্য, কৃষি খাতের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে জনবলসংকটের মধ্যেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে বেতন গ্রেড কমানোর সিদ্ধান্ত তাদের জন্য মর্যাদাহানিকর।

বিএডিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংস্থাটি প্রতিবছর বিভিন্ন ফসলের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ করে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় প্রতিবছর প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের সার আমদানি, বিতরণ ও মজুদের কাজ করে।

সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সময়োপযোগী সেচ পদ্ধতি বাস্তবায়নেও বিএডিসি কাজ করছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল-নালা পুনঃখননের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএডিসিকে প্রায় ৯ হাজার কিলোমিটার খাল-নালা পুনঃখননের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত অর্থবছরে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮৫৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।

বিএডিসির অনুমোদিত জনবল ৬ হাজার ৮০০। তবে বর্তমানে কর্মরত আছেন প্রায় ২ হাজার ৭০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী। এই সীমিত জনবল দিয়ে সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা বলেন, ১৯৬১ সালে অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি পরে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) নামে পরিচিত হয়। দেশের কৃষি উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

তাদের দাবি, সংবিধানের ২৯(১) ধারা, বিএডিসি আইন-২০১৮, ১৯৯০ সালের অনুমোদিত প্রবিধানমালা এবং ১৯৯৯ সালের গেজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন গ্রেড নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে ৩১ আগস্ট জারি করা পরিপত্র বাতিলের দাবি জানান তারা।

বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে সব কার্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পালন করা হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশে নতুন নিয়োগযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত মেনে বিএডিসির নিয়োগবিধি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধিমালা চূড়ান্ত করার আগে অর্থ বিভাগের মতামত ও সম্মতি এবং প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির অনুমোদন নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন আদেশে বিএডিসির প্রায় সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন গ্রেড এক ধাপ কমানো হলেও ১৪ জানুয়ারি জারি করা আগের আদেশটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন