EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫ শতাংশে নিতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী

ডেইলি সান রিপোর্ট, খুলনা

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫ শতাংশে নিতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

বর্তমানে শিক্ষাখাতে বাজেটের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়িয়ে তা ৫ শতাংশে নিতে চান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স ও বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) প্রযুক্তির মতো আধুনিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় বিনিয়োগ শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের ব্যয় প্রায় ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এই বিনিয়োগের সুফল শিক্ষার্থী ও রাষ্ট্র কতটা পাচ্ছে, তা মূল্যায়ন করাও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা কোথায় কর্মসংস্থান পাচ্ছেন এবং কর্মজীবনে তাদের অবস্থান কী—এসব তথ্য অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার।

শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিষয় বিভিন্ন জটিলতায় আটকে আছে। এসব জটিলতা দ্রুত নিরসন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে এহছানুল হক মিলন বলেন, বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি ইভি-সংশ্লিষ্ট কোর্স চালু করা জরুরি।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এআই ও রোবোটিক্সের মতো আধুনিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করারও তাগিদ দেন তিনি। কুয়েটে এআই কোর্স চালুর আবেদন দুই বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আটকে থাকার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের একাধিক বিভাগ খোলার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন বিভাগ চালুর আগে এর প্রয়োজনীয়তা, কর্মসংস্থানের সুযোগ, ল্যাব সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট কিংবা আর্কিটেকচারের পাশাপাশি আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিংয়ের মতো বিভাগ চালুর যৌক্তিকতাও পর্যালোচনা করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে এক হাজার টাকা করে দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহ বাড়াতে সাইকেল দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে সফল হওয়া শিক্ষার্থীদের অর্জনের কৃতিত্বের অংশ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও পাওয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে শুধু অবকাঠামো নয়, মেধা, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোতেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে চারটি বিআইটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল। এতে সভাপতিত্ব করেন কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ।

দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডিএম বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী।

আরও পড়ুন