EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে হত্যা: ২ জনের ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন

ডেইলি সান রিপোর্ট, বগুড়া

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে হত্যা: ২ জনের ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

বগুড়ায় ঈদ উপলক্ষে চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ী রাকিবুল হাসান হৃদয়কে (২৮) কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে দুই আসামিকে ফাঁসি এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক কৌশিক আহমেদ খোন্দকার জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) এস এম মাসুদুর রহমান স্বপন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বগুড়া সদর উপজেলার ধাওয়া পাড়া এলাকার টিয়া মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন স্বাধীন (২৩) ও মো. আসলামের ছেলে মো. রাব্বি (২৪)।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন একই এলাকার মো. মমতাজের ছেলে মো. আশিক (২২), মনু মিয়ার ছেলে মো. শাকিল (২৩) ও সাফির ছেলে মতিন (২৫)।

মামলার বিবরণ

আদালত ও আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার কৈপাড়া এলাকায় রাকিবুল হাসান হৃদয়ের মালিকানাধীন ‘হৃদয় ভ্যারাইটি স্টোরে’ ঈদ উপলক্ষে চাঁদা দাবি করেন আসামিরা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ধারালো অস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে হৃদয় ও তাঁর বাবা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশীদকে (৫৮) উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন তাঁরা।

পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদয়ের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা আয়েশা সিদ্দিকা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এস এম মাসুদুর রহমান স্বপন বলেন, চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দৃষ্টান্তমূলক এ রায় দিয়েছেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

রায়ের পর নিহত হৃদয়ের মা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, তাঁর একমাত্র ছেলে কোরআনের হাফেজ ছিলেন। ঈদের আগের দিন আসামিরা তাঁকে হত্যা করে। ঈদের পরদিন হৃদয়ের স্ত্রী একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু সেই সন্তান কোনোদিন বাবাকে দেখতে পারেনি।

আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুততম সময়ে দণ্ড কার্যকরের দাবি জানান হৃদয়ের মা।

আরও পড়ুন