EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ছিনতাইকারীর টানে শিক্ষক রনজিনার মৃত্যু: সিসিটিভিতে নীল বাইক, র‍্যাবের উদ্ধার সাদাকালো

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০১ এএম

ছিনতাইকারীর টানে শিক্ষক রনজিনার মৃত্যু: সিসিটিভিতে নীল বাইক, র‍্যাবের উদ্ধার সাদাকালো
অ অ

রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষক রনজিনা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-২। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত ইয়ামাহা আর-১৫ মোটরসাইকেল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

তবে উদ্ধার করা মোটরসাইকেলের রং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে নীল রঙের একটি মোটরসাইকেল দেখা যায়। র‍্যাব যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে, সেটি সাদাকালো রঙের।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন মোশাররফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী এবং তাঁর সহযোগী সেড্রিক। মোটরসাইকেলটির মালিক রাকিবকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় র‍্যাব-২ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।

র‍্যাবের দাবি, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকা থেকে পনি গাজী ও সেড্রিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার দিন মোটরসাইকেলটি পনি গাজীর কাছে ছিল।

নিহত রনজিনা পারভীনের স্বামী আবদুল মতিনও ঘটনাস্থলে এ ধরনের একটি মোটরসাইকেল দেখতে পেয়েছিলেন বলে র‍্যাবকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

নয়মুল হাসান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলচালকের দৈহিক গঠনের সঙ্গে পনি গাজীর দৈহিক গঠনের মিল রয়েছে। স্থানীয় ১৫ জনকে ফুটেজ দেখানো হয়েছে। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতেও পনির জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে র‍্যাব।

তিনি বলেন, রাত আড়াইটা থেকে ভোর চারটা পর্যন্ত আসামিদের মোবাইল নম্বরের অবস্থান ওই এলাকার আশপাশে পাওয়া গেছে।

র‍্যাব জানায়, পনি গাজীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, চুরি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এর আগে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে জামিনে বের হন।

বাইকের রং নিয়ে প্রশ্ন

ঘটনার পর প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে নীল রঙের একটি মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তিকে দেখা যায়। কিন্তু র‍্যাব যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে, সেটি সাদাকালো।

সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সামনে পনি গাজী চিৎকার করে দাবি করেন, তিনি এ ঘটনায় জড়িত নন। তাঁকে জোর করে ধরে আনা হয়েছে। তাঁর মোটরসাইকেলের রং সাদাকালো বলেও দাবি করেন তিনি।

পনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে যে মোটরসাইকেল দেখা গেছে, সেটি নীল রঙের।

বাইকের রঙের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নয়মুল হাসান বলেন, মামলায় আসামি অজ্ঞাত। এ কারণে দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

তিনি বলেন, আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

যা বলছেন শিক্ষিকার স্বামী

বাইকের রং নিয়ে নিহত শিক্ষিকার স্বামী আবদুল মতিন বলেন, ঘটনার সময় তিনি রোগীকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তাই মোটরসাইকেলটির রং বা ধরন খেয়াল করতে পারেননি।

তিনি বলেন, প্রশাসন চেষ্টা করলে কোনো কাজই অসম্ভব নয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে হবে। তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন