EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

প্রাণিসম্পদ পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

ডেইলি সান রিপোর্ট, মুন্সীগঞ্জ

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

প্রাণিসম্পদ পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

উৎপাদিত প্রাণিসম্পদ পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, খামারিরা যাতে উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম পান, সে জন্য উৎপাদন থেকে শুরু করে প্যাকেজিং, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ—সব পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সুফলভোগী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, উৎপাদিত প্রাণিসম্পদ পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক সময় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন হলে স্থানীয় পর্যায়ে ছোট আকারের প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

সার সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে সারের কোনো সংকট সৃষ্টি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সারসহ প্রয়োজনীয় সব কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ব্যবস্থা নেবে।

কৃষকের উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কোন এলাকায় কত জমিতে কী ফসল উৎপাদিত হচ্ছে, কী পরিমাণ সার ও বীজ প্রয়োজন এবং উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা কত—এসব তথ্যের ভিত্তিতে সরকারকে আগাম পরিকল্পনা করতে হবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে এসব তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে কৃষি উপকরণ সরবরাহ আরও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। মাছ চাষ, গবাদিপশু পালন, দুধ উৎপাদন ও বিক্রি কিংবা পান চাষের সঙ্গে যারা যুক্ত, তারাও কৃষির অংশ। কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কাজ করছে।

মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জলাশয়ে অভয়াশ্রম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলার খাস জলাশয়ে পরিকল্পিতভাবে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হবে। শুষ্ক মৌসুমে এসব অভয়াশ্রম মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করবে এবং বর্ষায় মাছের প্রজনন ও বিস্তারে সহায়তা করবে। তবে এ উদ্যোগ সফল করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশকে কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভর দেশ থেকে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য উৎপাদন বৃদ্ধি, মান নিশ্চিতকরণ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ—সব ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ২৫ জন সুফলভোগী প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ২৫টি বকনা গরু ও প্রয়োজনীয় প্রাণিখাদ্য বিতরণ করা হয়। এছাড়া ১০০ কৃষক-কৃষাণীর মধ্যে ৫০০টি উন্নত জাতের বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।

পরে মন্ত্রী রুইজাতীয় ২৮৬ কেজি মাছের পোনা ফুলদী নদীর খালে অবমুক্ত করেন।

আরও পড়ুন