EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

পাহাড়ে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে অর্থকরী ফসল চাষের আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৮ এএম

পাহাড়ে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে অর্থকরী ফসল চাষের আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

পার্বত্য চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে—এমন প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু। পাহাড়ি মাটি বিশেষ কিছু অর্থকরী ফসলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী উল্লেখ করে তিনি কাজুবাদাম, কফি, মাশরুম ও উন্নত জাতের লটকনসহ পরিবেশবান্ধব কৃষি সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জুলাই মাসের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও নেপালের মতো এশিয়ার বিভিন্ন দেশ কৃষিকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলেও কৃষিতে এমন বিপ্লব ঘটাতে হবে। ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে অর্থকরী ফসল উৎপাদনে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

কাজুবাদাম ও কফি চাষে উচ্চ ফলনশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সাচিং প্রু বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মাটির গুণগত মান নির্ণয়ে মৃত্তিকা ট্রেড সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে মাটির ধরন অনুযায়ী অর্থকরী ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি গাড়ল, ভেড়া ও মেষ পালনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। অধিগ্রহণের কারণে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি খাসজমিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, তামাক চাষ সমাজ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই কৃষকদের তামাক চাষ থেকে নিরুৎসাহিত করে ইক্ষু, তুলা, কাজুবাদাম ও কফি চাষে উৎসাহিত করতে হবে। দুর্গম এলাকায় পানির সংকট দূর করা, অর্গানিক ফলের বাগান সম্প্রসারণ, রাম্বুটান চাষ, কোল্ড স্টোরেজ ও ড্রাই ফ্রুটস প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে দুর্গম এলাকার মেয়েদের জন্য বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা এবং সেন্ট্রাল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা ও ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদকে শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবনী পুরস্কার দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মা ম্যা চিং, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ম্রা সা থোয়াই মারমা এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার সভায় অংশ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ, জলবায়ু সহনশীল জীবিকা ও ওয়াটারশেড ব্যবস্থাপনা, তুলা চাষ বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচন, টেকসই সামাজিক সেবা এবং বিভিন্ন যোগাযোগ ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন