আইন ভেঙে ভবন নির্মাণ করার সুযোগ আর থাকবে না: গণপূর্তমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম
দেশে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আইন, বিধি ও নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেছেন, এখন থেকে আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। আইন ভেঙে ভবন নির্মাণ বা আবাসন প্রকল্প করার সুযোগ আর থাকবে না।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এবং বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, অনুমোদিত নকশায় সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) ও সোক ওয়েল রাখার কথা থাকলেও অনেক ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান তা নির্মাণ করেনি। ভবিষ্যতে কেউ যাতে অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, রিহ্যাব ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সচেতন হতে হবে। আইন ভেঙে যাতে কোনো ভবন বা আবাসন প্রকল্প গড়ে না ওঠে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়া শতভাগ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিধিমালা সংশোধন করা হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীর বাইরের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনা হবে।
মতবিনিময় সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি ডেভেলপারদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি বলেন, অনেক মানুষ বছরের পর বছর আগে টাকা পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট বুঝে পাচ্ছেন না। আবার কেউ কোনো কারণে চুক্তি অনুযায়ী কিস্তি চালিয়ে যেতে না পারলে তিন-চার বছর ধরে তাঁদের জমা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। বিষয়গুলো মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সভায় রিহ্যাব ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা আইন ও বিধি মেনে ভবন নির্মাণ এবং আবাসন উন্নয়নের বিষয়ে তাঁদের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।
এ সময় তাঁরা ঢাকা মহানগর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) ও ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা নিয়েও তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।
সভায় রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিনসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।