EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

নিরাপদ খাদ্য আইনে এক সপ্তাহে ৬৭ লাখ টাকা জরিমানা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

নিরাপদ খাদ্য আইনে এক সপ্তাহে ৬৭ লাখ টাকা জরিমানা
অ অ

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। গত ১৬ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত এসব অভিযানে ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সময়ে ২৫টি মামলা করা হয়েছে।

রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সামারি ট্রায়ালও হয়েছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) এ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২২ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় সামারি ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়। এতে চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। চারটি মামলাও করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় একই সময়ে সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। করা হয়েছে তিনটি মামলা।

এ ছাড়া পাবনা, বগুড়া, মাদারীপুর, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, ফরিদপুর, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নীলফামারী, লক্ষ্মীপুর ও মানিকগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

১৬ থেকে ২২ আগস্ট এসব জেলায় মোট ১৫টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। এতে ২৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। করা হয়েছে ১৫টি মামলা।

১৭ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সামারি ট্রায়াল হয়। এ সময় কোনো জরিমানা করা হয়নি। তবে তিনটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

২২০ খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্যস্থাপনা মনিটরিংও জোরদার করেছে বিএফএসএ। ওই সময়ে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ ২২০টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং করা হয়।

এসব কার্যক্রমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা দেখা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নেওয়া হয়েছে আইনানুগ ব্যবস্থাও।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যনীতি নিয়ে ডব্লিউএইচও-এর সঙ্গে সভা

স্বাস্থ্যকর খাদ্যনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, খাদ্যে সোডিয়ামের পরিমাণ কমানো, ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে বিএফএসএ।

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিক্যাপ মিশনের সঙ্গে পরামর্শ সভাও হয়েছে।

১৮ আগস্ট বিএফএসএর সম্মেলন কক্ষে ওই সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএফএসএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শফিকুল ইসলাম।

সভায় স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে খাদ্যনীতি ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। বিএফএসএ ও ডব্লিউএইচও-এর চলমান ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করা হয়।

জনসচেতনতায় টিভি ও বেতারে প্রচার

নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হয়েছে।

বাংলাদেশ টেলিভিশনে ট্রান্সফ্যাটবিষয়ক ১৪ মিনিটের টিভিসি প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪২ বার স্ক্রলবার্তা প্রচার করা হয়। বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক তিনটি পৃথক বার্তা ৩৫ মিনিট প্রচার করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

বিএফএসএ চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়। এটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তিনি বলেন, আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি খাদ্য ব্যবসায়ী ও উৎপাদকদের দায়িত্বশীল আচরণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। নিয়মিত মনিটরিং, গবেষণা ও জনসচেতনতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে। জনগণের নিরাপদ খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে বিএফএসএর কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা হবে।

আরও পড়ুন