EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টমেটোর কলমের চারায় বদলে যাচ্ছে গ্রামের অর্থনীতি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টমেটোর কলমের চারায় বদলে যাচ্ছে গ্রামের অর্থনীতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার এক নার্সারিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর গ্রাফটিং চারা তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক।

অ অ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শতাধিক নার্সারিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কাজ চলছে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর গ্রাফটিং কলমের চারা উৎপাদনে। আগে এই চারা কিনে আনতে হতো পাশের জেলা থেকে। এখন সেই নির্ভরতা কাটিয়ে কৃষকরা নিজেরাই উৎপাদন করছেন প্রয়োজনীয় চারা। কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, সদর উপজেলার এসব নার্সারি থেকে সারা বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার চারা কেনাবেচা হয়।

সদর উপজেলার নাটঘর উত্তর, রামরাইল ও মাছিহাতা ইউনিয়নের উদ্যোক্তা কৃষকরা নিজস্ব নার্সারিতে এই চারা উৎপাদন করছেন। প্রক্রিয়াটাও বেশ চমকপ্রদ। পতিত বা বন বেগুনের—রাস্তার ধারে জন্মানো ওয়াইল্ড ভ্যারাইটির বেগুনের—চারার সঙ্গে উন্নত জাতের টমেটোর চারা কলম করে তৈরি করা হয় এই গ্রাফটিং চারা। এই পদ্ধতিতে গ্রাফটিং ও বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন সদর উপজেলার প্রায় ছয় শতাধিক নারী-পুরুষ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি নার্সারিতে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চারা।

চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িতরা জানান, জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই সময়ে বৃষ্টির প্রভাব থাকে সবচেয়ে বেশি। এই সময়ে সাধারণ বা নন-গ্রাফটিং টমেটোর চাষ ভালো হয় না। তাই এই বিকল্প পথ বেছে নিতে হয়েছে তাদের। এক কৃষক বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা এখন আর বেকার নেই। সবাই মোটামুটি মাঠের কৃষিকাজে জড়িত হয়ে গেছে। গ্রাফটিং, নন-গ্রাফটিং—সব ধরনের চারাই আমরা উৎপাদন করছি।’

এই খাতে সরাসরি জড়িত অন্তত ১৫০ জন উদ্যোক্তা কৃষক আছেন। তাদের সঙ্গে কাজ করেন অনেক নারী শ্রমিকও, যারা ঘরের কাজ সামলে এখানে এসে বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

সদর উপজেলার বেহাইর গ্রাম পরিচিত ‘সবজি পল্লী’ বা ‘চারা গ্রাম’ নামে। এখানে প্রায় ৪০টি পরিবার সরাসরি সারা বছর নানা ধরনের সবজির চারা উৎপাদন করেন। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই জীবিকার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৬০০ জন মানুষ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চারা গ্রামে নার্সারিতে গ্রাফটিং টমেটো চারা তৈরিতে ব্যস্ত নারী শ্রমিকরা।

মে থেকে আগস্ট—এই চার মাস চলে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর গ্রাফটিং চারা উৎপাদন। বাকি সময়ে উৎপাদিত হয় বিভিন্ন সবজির বীজের চারা। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় বছরে প্রায় ৫ লাখ গ্রাফটিং চারা উৎপাদিত হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এই নার্সারিগুলোতে সারা বছরে বিক্রি হয় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার চারা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, বছরে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার চারা বেচাকেনা হয় এই এলাকায়। তিনি জানান, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন বাড়াচ্ছে, তেমনি তৈরি করছে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগও। স্থানীয়দেরও প্রত্যাশা, ধীরে ধীরে আরও বড় হয়ে উঠবে এই চারা-শিল্প, আর তাতে লাভবান হবে গোটা অঞ্চলের মানুষ।

আরও পড়ুন