EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে পুলিশ-মাদ্রাসাছাত্রদের সংঘর্ষ, আহত ৩০

ডেইলি সান রিপোর্ট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে পুলিশ-মাদ্রাসাছাত্রদের সংঘর্ষ, আহত ৩০

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত মাদ্রাসার ছাত্ররা।

অ অ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসাছাত্রদের উত্তেজনা, হামলা ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাদ্রাসাছাত্র ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকার পুলিশ লাইন্সের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ, মাদ্রাসাছাত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর আগমন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিআইজি অনুষ্ঠান উপভোগ করে চলে যাওয়ার পরও অনুষ্ঠান চলছিল।

এ সময় উচ্চস্বরে গান বাজানোয় দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সে গিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের তর্কবিতর্ক শুরু হয়। পরে শতাধিক মাদ্রাসাছাত্র পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে। এ সময় মাদ্রাসাছাত্ররাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসাছাত্র ও পুলিশ সদস্যসহ ৩০ জন আহত হন।

দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বুধবার তাঁদের মাদ্রাসায় পরীক্ষা ছিল। উচ্চস্বরে গান বাজানোর কারণে পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছিল। তাই প্রথমে তাঁরা কয়েকজন পুলিশ লাইন্সে গিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, তাঁদের অনুরোধের পর কিছু সময়ের জন্য শব্দ কমানো হলেও পরে আবার উচ্চস্বরে গান বাজানো শুরু হয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।

তবে সংঘর্ষের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে জেলা পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

আরও পড়ুন