ঝড়ো হাওয়ায় লণ্ডভণ্ড কক্সবাজারের নাজিরারটেক শুঁটকি মহাল, ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা
ডেইলি সান রিপোর্ট, কক্সবাজার
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৫ এএম
মধ্যরাতের ঝড়ো হাওয়ায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক শুঁটকি মহাল। কয়েক মিনিটের তাণ্ডবে মহালের অন্তত ১৫ থেকে ২০টি উৎপাদনঘর ও দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাচায় শুকাতে দেওয়া এবং গুদামে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত মাছ বাতাসে উড়ে এবং বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সোমবার দিবাগত গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে নাজিরারটেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এতে শুঁটকি মহালের বিভিন্ন স্থাপনার চালা উড়ে যায়। কোথাও কোথাও মাচায় শুকাতে দেওয়া মাছও বাতাসে উড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবুল হান্নান বলেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়েছে। এর প্রভাবে কক্সবাজারসহ দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার উপকূলে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে বিচরণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে কক্সবাজারসহ উপকূলীয় এলাকায় আরও বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবুল হান্নান বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে নাজিরারটেক এলাকার মাটি আগে থেকেই নরম হয়ে ছিল। এর মধ্যে ঝড়ো হাওয়ার কারণে বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিধ্বস্ত হয়েছে।
নাজিরারটেক মৎস্য ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, সোমবার রাত থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। মধ্যরাতে হঠাৎ বৃষ্টি ও বাতাসের তীব্রতা বেড়ে যায়। একপর্যায়ে শুঁটকি পল্লির বিভিন্ন আড়তের চালা উড়ে যায়। কোনো কোনো ঘরের ছাউনি ও মাচায় শুকাতে দেওয়া মাছও বাতাসে উড়ে যায়।
মহাল মালিক নুর হোসেন বলেন, শুকানোর জন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা ছুরি শুঁটকি, লইট্যা, ফাইস্যা, চইক্কা ফাইস্যা ও পোপাসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ বাতাসে উড়ে যায়। কোথাও কোথাও ঘরের চালাও উড়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে পড়ে। পরে এসব মাছ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।
ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা জানান, ঝড়ের আঘাতে শুঁটকি মহালের ১৫ থেকে ২০টি ঘর ও দোকান বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপুল পরিমাণ মাছ নষ্ট হওয়ায় সব মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।
নাজিরারটেক শুঁটকি মহাল দেশের অন্যতম বৃহৎ শুঁটকি উৎপাদনকেন্দ্র। প্রতি মৌসুমে এখানে মাছের গুঁড়াসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন শুঁটকি উৎপাদিত হয়। এসব শুঁটকির বাজারমূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা। দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উৎপাদিত শুঁটকি বিদেশেও রপ্তানি করা হয়।
কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের তীরঘেঁষা প্রায় ১০০ একর বালুচরজুড়ে গড়ে উঠেছে নাজিরারটেক শুঁটকি মহাল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।