বিষখালী নদীর পাড়ে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ
বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্ত্তী, বাগেরহাট
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ ও কচুয়া উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বিষখালী নদীর দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করেছে বন বিভাগ। ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির এসব গাছের চারা নদীর প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রোপণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর দুই পাড়ে সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। প্রতিটি চারার সঙ্গে খুঁটি দিয়ে তা বেঁধে রাখা হয়েছে। নিম, শিশু, মেহগনি, বাবলা, জাম, কদবেল, আমলকি, হরতকি, বয়রা, জামরুল, তেঁতুল, পেয়ারা, জলপাই, অর্জুন, ঝাউ ও খয়েরসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা রয়েছে। এরই মধ্যে অনেক চারায় নতুন পাতা গজিয়েছে। শ্রাবণের বৃষ্টি ও বাতাসে নদীর দুই পাড়ে সবুজের সমারোহ দেখা দিয়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, রোপণ করা গাছের চারা নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে। সামাজিক বনায়ন বিধিমালা ২০২৬ অনুযায়ী, রোপণের ১০ বছর পর গাছ বিক্রি করা হবে। বিক্রির অর্থের ৫৫ শতাংশ স্থানীয় উপকারভোগী, ২০ শতাংশ ভূমিমালিক, ৫ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদ, ১০ শতাংশ ট্রি প্লান্টিং ফান্ড (টিএফএফ) এবং ১০ শতাংশ বন অধিদপ্তর পাবে।
মোড়েলগঞ্জের কাঠিপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নির্মল চন্দ্র দাস বলেন, বিষখালী নদীর চরের সঙ্গে তাঁর ও তাঁর তিন ভাইয়ের জমি রয়েছে। বন বিভাগ সেখানে গাছের চারা রোপণ করেছে। গাছ বিক্রির পর বিধিমালা অনুযায়ী তাঁরা অর্থের একটি অংশ পাবেন বলে বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে কত বছর পর এবং কী পরিমাণ অর্থ পাবেন, তা তিনি জানেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা পরিমল পাল বলেন, নদীর চরে তিনি মাটির তৈজসপত্র তৈরি ও শুকানোর কাজ করতেন। সেখানে গাছ লাগানোর কারণে তাঁর ব্যবসায় কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে গাছ বিক্রির অর্থের অংশ পেলে সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
বাগেরহাট জেলা সামাজিক বন বিভাগ জানায়, ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত জেলার ৩২৬ কিলোমিটার এলাকায় ৩ লাখ ২৬ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৬০ হেক্টর জমিতে ম্যানগ্রোভ বন তৈরি করা হয়েছে।
বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. শাহীন কবির বলেন, এ বছর বিষখালী নদীর দুই তীরে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মোড়েলগঞ্জ অংশে ৩০ হাজার ও কচুয়া অংশে ২০ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। গাছগুলো নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে।