EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যু বেড়ে ৯

ডেইলি সান রিপোর্ট, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যু বেড়ে ৯

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও সাতজন।

নিহত শ্রমিকের নাম মতিউর রহমান (১৯)। শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড ও রিসাইক্লিং কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম জানান, মতিউর রহমানকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে আরও সাতজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত নয় শ্রমিক হলেন—সানি জলদাস (২৩), পলাশ জলদাস (৩৫), হাবিবুর রহমান (৫১), মোহাম্মদ মনসুর (৫৫), নাসির উদ্দিন (৫১), আবদুল আলীম (৩৬), রানা মিয়া (২৩), মতিউর রহমান (১৯) ও খোকন মিয়া (২৩)। তাঁদের মধ্যে খোকন ও রানা গাইবান্ধার এবং আবদুল আলীম পাবনার বাসিন্দা। অন্যরা ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা। নিহত মনসুর ও নাসির আপন ভাই।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে নয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার সকালে হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে শ্রমিকদের চিৎকার শোনা যায়। পরে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজন অসুস্থ শ্রমিককে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেন। এরপর স্ক্র্যাপ জাহাজের ভেতরে কয়েকজন শ্রমিকের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন কারখানায় ঢুকে ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম জানান, যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল সেটি এলএনজি বহন করত। এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে অবশ্যই গ্যাসমুক্ত করতে হয়। বিভিন্ন ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস থাকতে পারে।

তিনি বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করেই জাহাজ কাটার কাজ করায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থাও খুবই দুর্বল ছিল।

আরও পড়ুন