EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

শাহজালালের কঠোর নিরাপত্তা পেরিয়ে ৩১ রাউন্ড তাজা গুলিসহ বিমানে ব্যবসায়ী

ব্যাগটি ছিল আলোচিত ব্যবসায়ী আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম

শাহজালালের কঠোর নিরাপত্তা পেরিয়ে ৩১ রাউন্ড তাজা গুলিসহ বিমানে ব্যবসায়ী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা স্তর পেরিয়ে গুলিভর্তি ব্যাগ ওঠার ঘটনায় প্রশ্নের মুখে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা।

অ অ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক নিরাপত্তা স্তর পেরিয়ে ৩১ রাউন্ড তাজা গুলিভর্তি একটি ব্যাগ কীভাবে বিমানে উঠল, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য। আরও উদ্বেগের বিষয়, ব্যাগটি ছিল আলোচিত ব্যবসায়ী আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার।

বিমানবন্দরের প্রবেশপথ, হেভি লাগেজ স্ক্যানিং থেকে শুরু করে চূড়ান্ত নিরাপত্তা তল্লাশি—কোনো স্তরেই শনাক্ত হয়নি ব্যাগে থাকা বিপজ্জনক গোলাবারুদ। এভাবেই ব্যাগটি নিয়ে বিমানে উঠে দিল্লি পৌঁছে যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। তবে শেষ পর্যন্ত গুলিভর্তি ব্যাগটি ধরা পড়ে দিল্লি বিমানবন্দরের স্ক্যানারে।

বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত জানানো হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিব্রত হন। পরে দ্রুত গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।

এমন একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দৈনিক যুগান্তর। প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নিরাপত্তাব্যবস্থার সব স্তর পেরিয়ে কীভাবে ৩১ রাউন্ড তাজা গুলিভর্তি ব্যাগটি বিমানে উঠল। এই গুরুতর ব্যর্থতার জন্য কারা দায়ী, তা-ও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, সিসিটিভি ক্যামেরার পুরো ভিডিওচিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তার কাছে মনে হয়েছে, রহস্যজনক কারণে নিরাপত্তা তল্লাশির প্রতিটি ধাপে চরম গাফিলতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে বিধিবহির্ভূতভাবে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। মূলত এ কারণেই গুলিভর্তি ব্যাগটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতাই প্রকাশ করেনি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনায় নিরাপত্তার কোনো স্তরেই গাফিলতির সুযোগ নেই। একাধিক নিরাপত্তা ধাপ পেরিয়ে ৩১ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদসহ একটি ব্যাগ বিমানে উঠে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। তদন্তে দায়িত্বে গাফিলতি, নিয়মবহির্ভূত প্রটোকল কিংবা নিরাপত্তা তল্লাশিতে ব্যর্থতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৯৭ ফ্লাইটে ঢাকা থেকে দিল্লি যাওয়ার জন্য আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, তার ছেলে আরেদিন ভূঁইয়া ও মেয়ে নুসরাত জুবাইয়ারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন।

তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগে বিপজ্জনক গোলাবারুদ থাকার পরও সেটি শনাক্ত হয়নি। এভাবেই ঢাকার বিমানবন্দরের একাধিক নিরাপত্তা ধাপ পেরিয়ে দিল্লি পৌঁছে যান তারা।

কিন্তু গুলিভর্তি ব্যাগটি ধরা পড়ে দিল্লি বিমানবন্দরের স্ক্যানারে। এরপর সেখান থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফোন করা হয়। খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসেন সংশ্লিষ্টরা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও বিব্রত হন এবং দ্রুত গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিমানবন্দরে প্রবেশের পর প্রথমে হেভি লাগেজ গেট-৬-এ স্ক্যানিং করা হয়। এরপর চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষে বোর্ডিংয়ের আগে আবারও চূড়ান্ত নিরাপত্তা তল্লাশি ও স্ক্যানিং করা হয়।

তিনি বলেন, এতগুলো ধাপ অতিক্রম করার পরও যদি ৩১ রাউন্ড গোলাবারুদ বিমানে উঠে যায়, তাহলে শুধু একজন স্ক্যানারের দক্ষতা নিয়ে নয়, পুরো নিরাপত্তা চেইনের কার্যকারিতা নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন উঠবে।

আরও পড়ুন