EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

জুলাই অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে: ডা. রফিকুল ইসলাম

অনুষ্ঠানে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে একদল চিকিৎসকের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৬ পিএম

জুলাই অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে: ডা. রফিকুল ইসলাম

বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজে আয়োজিত ‘জাগ্রত জুলাই’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।

অ অ

জুলাই অভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।

বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজে আয়োজিত ‘জাগ্রত জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে এক ভয়ংকর খুনি ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের পতনের পর জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন এক বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে। ছাত্র-জনতার এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দলমত নির্বিশেষে স্বাধীনচেতা মানুষের দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে।’

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সূচনা ২০২৪ সালে নয়; এর শিকড় আরও অনেক গভীরে। ওয়ান-ইলেভেনের পর গণতন্ত্র হরণ এবং পরবর্তী সময়ে নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে আওয়ামী লীগের হাতে দেশকে তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়েই এই আন্দোলনের সূত্রপাত বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষায়, ‘আন্দোলন শেষ হয়েছে ২০২৪ সালে এসে, কিন্তু তার শুরুটা একযুগেরও বেশি আগের।’

বিএনপির নেতাকর্মীদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বৈরাচারী শাসন ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আন্দোলন করেছেন। এ সময়ে বহু নেতাকর্মী নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং অসংখ্য মামলার কারণে অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

‘তাদের আত্মত্যাগই জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট প্রস্তুত করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আবু সাঈদ, ওয়াসিম ও মুগ্ধদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ পেয়েছি,’ বলেন তিনি।

দীর্ঘ সময়ে গুমের শিকার বিএনপির নেতাকর্মীদের স্মরণ করে অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম- ইলিয়াস আলী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য চৌধুরী আলম, ছাত্রনেতা জনিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গুমের শিকার ছয় শতাধিক নেতাকর্মীর কথা ভুলে গেলে চলবে না।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন ২ হাজার ৬৯৯ জন, গুম হয়েছেন ৬৭৭ জন এবং কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৪৮ জন। এসব ঘটনার অধিকাংশ ভুক্তভোগী বিএনপির নেতাকর্মী বলে তিনি দাবি করেন।

এ ছাড়া, ২০০৯ সালের পর থেকে ২০২৫ সালের ৫ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলায় ৫৯ লাখ ২৯ হাজার ৪৯২ জনকে আসামি করা হয়েছে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এত ব্যাপক নির্যাতনের নজির বিরল।

জুলাই অভ্যুত্থানে চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকদের একটি অংশ সরকারের পক্ষে অবস্থান নিলেও চিকিৎসকদের আরেকটি বড় অংশ সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে ভূমিকা রাখে।

অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে চিকিৎসকদের বিতর্কিত ভূমিকা আমাদের ব্যথিত করে। চিকিৎসা নিয়ে গড়িমসির পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে রিপোর্ট প্রদানেও চিকিৎসকদের সন্দেহজনক ভূমিকা ছিল।’

এ প্রসঙ্গে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মুন্সিগঞ্জের শাওন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হলেও তাঁর ডেথ সার্টিফিকেটে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তা প্রতিফলিত হয়নি।

এ ছাড়া ২০১৫ সালে খিলগাঁওয়ের জনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনার কোনো ফরেনসিক রিপোর্ট বা সংশ্লিষ্ট নথি বর্তমানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম এসব নথি হারিয়ে যাওয়া বা প্রতিবেদনে অসঙ্গতির জন্য তৎকালীন সরকারের সুবিধাভোগী চিকিৎসকদের দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘হত্যার জন্য পুলিশ যেমন দায়ী, ঠিক একইভাবে বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য মিথ্যা রিপোর্ট দেওয়া কিংবা নথি গায়েব করার জন্য যারা দায়ী, তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।’

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কিছু চিকিৎসক এখনও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নিয়মিত পদায়ন ও পদোন্নতি পাচ্ছেন। এসব চিকিৎসকের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

‘এরা এখনও আমাদের সঙ্গে, আপনাদের সঙ্গে মিশে আছে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এখন সময় এসেছে ফ্যাসিবাদী শাসনের সহযোগী ও বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্তকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার,’ বলেন তিনি।

আরও পড়ুন