শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনা কার্যকর করার আহ্বান
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অধিকারভিত্তিক করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে অভিবাসী ও প্রত্যাগত শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শ্রম অভিবাসনবিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা-২০২৬ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি হোটেলে বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘বিদেশফেরত অভিবাসী শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই পুনঃএকত্রীকরণের জন্য ট্রেড ইউনিয়নের সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক প্রকল্প’-এর আওতায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) এ সভার আয়োজন করে। আই সোশ্যালের সহযোগিতায় এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) অর্থায়নে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর। সভাপতিত্ব করেন এনসিসিডব্লিউই-এর চেয়ারম্যান ও বিলস উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মেসবাহউদ্দীন আহমেদ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রত্যাগত শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রত্যাগত শ্রমিকদের জন্য দেওয়া ভাতার পরিমাণ বাড়ানোরও চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, শ্রম অভিবাসন একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিষয়। এর সঙ্গে মানবাধিকারের বিষয়ও জড়িত। তাই অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শ্রমিক পাঠানো দেশগুলোর মধ্যেও সমন্বয় প্রয়োজন।
সভায় আই সোশ্যালের চেয়ারপারসন ড. অনন্য রায়হান শ্রমিক নিয়োগকারী এজেন্সির সিন্ডিকেট ভাঙা এবং আগামী পাঁচ বছরে ১০টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ওপর গুরুত্ব দেন। নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা, নিরাপদ আবাসন এবং অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রত্যাগত শ্রমিকদের ডাটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, উচ্চ অভিবাসন ব্যয়, দক্ষতার অমিল, সীমিত শ্রমবাজার এবং প্রত্যাগত শ্রমিকদের পুনঃএকত্রীকরণে পর্যাপ্ত সহায়তার অভাব এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা-২০২৬ চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।