এসএসসির ফলাফল
মেধার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে: মাহ্দী আমিন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০১:২১ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। ছবি: সংগৃহীত
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের মেধার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সচিবালয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারও গর্বিত। যারা প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেনি, তাদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এটাই জীবনের শেষ সুযোগ নয়। যারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পায়নি, সরকার সবসময় তাদের পাশে থাকবে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, ভবিষ্যতেও যেন তারা সব বাধা পেরিয়ে সফলতা অর্জন করতে পারে।’
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আমরা বহু বছর ধরে দেখে আসছি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ কিংবা পাসের হার বাড়িয়ে দেখানো হতো। আমরা সেই সংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি বের হয়ে এসেছি।’
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকৃত যোগ্যতা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা নিয়ে বের হয়ে আসবে।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার কার্যক্রম গত ২১ এপ্রিল শুরু হয়। পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ও বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। খাতা মূল্যায়নের পুরো প্রক্রিয়াও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীরা যেভাবে পরীক্ষা দিয়েছে, সেভাবেই তাদের খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ জন্য পরীক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল। তাই ফলাফল নিয়ে বিতর্ক না তুলে তা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, মাঠ প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
তিনি বলেন, ভালো বা খারাপ ফলাফল—সব শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে সরকার সামনে এগিয়ে যেতে চায়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ, কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যা শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল করবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এ ক্ষেত্রে পাস-ফেলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা ও যোগ্যতার নিরপেক্ষ মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, একাডেমিক কারিকুলামে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজনের কাজ চলছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে নতুন কিছু পরিবর্তনের পাশাপাশি চারটি নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
এ ছাড়া শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, শিক্ষা কার্যক্রমে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির সমন্বয় এবং শিক্ষায় প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
মাহ্দী আমিন আরও বলেন, দেশের তৃণমূল থেকে রাজধানী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের একই প্ল্যাটফর্মে আনতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে ইনোভেশন গ্রান্ট ও স্টার্টআপ প্রতিযোগিতার আয়োজনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
গণমাধ্যমের প্রতি শিক্ষার্থীদের সাফল্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব ক্ষেত্রে সমস্যা বা ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে