দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে কাল চালু হচ্ছে ঢাকা-গোপালগঞ্জ ট্রেন, সময়সূচি নিয়ে অসন্তোষ
এতদিন সড়কপথেই ঢাকায় যেতে হতো এই জেলার মানুষকে
ডেইলি সান রিপোর্ট, গোপালগঞ্জ
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
আগামীকাল থেকে যাত্রা শুরু করছে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটের ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে সুখবর পেতে যাচ্ছে গোপালগঞ্জবাসী। আগামীকাল সোমবার (১০ আগস্ট) থেকে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে চালু হচ্ছে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন।
এতদিন সড়কপথেই ঢাকায় যেতে হতো এই জেলার মানুষকে। যানজট, দুর্ঘটনার ভয়, বাড়তি ভাড়া—সবই ছিল নিত্যদিনের ভোগান্তি। ট্রেন চালু হলে এসব কষ্ট অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
তবে খুশির খবরের সঙ্গে জুড়ে গেছে একটা অভিযোগও—ট্রেনের সময়সূচি নিয়ে সন্তুষ্ট নন অনেকে।
সময়সূচিতে যত আপত্তি
রেলওয়ে জানিয়েছে, ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছাড়বে দুপুর ৩টা ১৩ মিনিটে, গোপালগঞ্জ পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে। ফিরতি ট্রেন গোপালগঞ্জ থেকে ছাড়বে সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে, ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে।
এই সময়ে অফিস, ব্যবসা বা চিকিৎসার কাজে ঢাকা যাওয়া মানুষের তেমন সুবিধা হবে না বলে মত স্থানীয়দের। যাত্রী কম হলে লোকসানের আশঙ্কাও করছেন তাঁরা।
সদর উপজেলার বাসিন্দা সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, ‘এই সময়ে ট্রেন চললে লাভ হবে শুধু মালামাল পরিবহনে। সকালে গোপালগঞ্জ থেকে ট্রেন ছাড়লে আসলে কাজে লাগত।’
থানাপাড়ার বাসিন্দা ইদ্রিস আলী ফকির বলেন, ‘ট্রেন চালু হওয়া ভালো খবর। কিন্তু এই সময়সূচিতে যাত্রী কম হবে। লোকসান হলে একসময় লাইনটাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই সময় বদলানো জরুরি।’
সকালের ট্রেন চান সবাই
স্থানীয়দের দাবি— সকালে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে একটা ট্রেন ছাড়া হোক। তাহলে অফিসগামী মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন, আর দিনের কাজ শেষে সন্ধ্যায় আবার গোপালগঞ্জেও ফেরা যাবে।
রাত ১০টা ২৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানো মানে দূরের যাত্রীদের হোটেলে থাকা বা আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেওয়া লাগতে পারে, সঙ্গে থাকছে রাতের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তাও। তাঁদের ভাষ্য, সময় ঠিক হলে যাত্রী বাড়বে, যাত্রী বাড়লে রেলওয়ের আয়ও বাড়বে—লাভ হবে দুই পক্ষেরই।
অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে ট্রেন
কৃষিপ্রধান গোপালগঞ্জের কৃষকরা এখন কম খরচে শাকসবজি ও মাছ সরাসরি ঢাকার বাজারে পাঠাতে পারবেন, যা তাঁদের ন্যায্যমূল্য পাওয়া ও আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি করবে। গোপালগঞ্জের পাশাপাশি নড়াইল, পিরোজপুর ও বাগেরহাটের মানুষও এই ট্রেনের সুফল পাবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর নতুন রেলস্টেশনে আগামীকাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। প্রধান অতিথি থাকবেন সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম, বিশেষ অতিথি থাকবেন সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর।
দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় খুশি গোপালগঞ্জবাসী। তবে তাঁদের চাওয়া একটাই—ট্রেনটা যেন শুধু চালু হয়েই থেমে না যায়। সময়সূচি পুনর্বিন্যাস হলে এই রেলপথ সত্যিকারের কাজে আসবে বলে মনে করছেন তাঁরা।