বিরূপ আবহাওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তরমুজ চাষে বড় ধাক্কা
এক দিকে টানা বৃষ্টি, অন্য দিকে রোদের তীব্র তাপ—এই দুইয়ের চাপেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাঠজুড়ে পচে নষ্ট হয়েছে তরমুজ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রামরাইল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে টানা বৃষ্টিতে পচে নষ্ট হয়ে যাওয়া তরমুজ ক্ষেত। ছবি: ভিডিও থেকে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতিবৃষ্টিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এক দিকে টানা বৃষ্টি, অন্য দিকে রোদের প্রখর তাপে নষ্ট হয়ে গেছে আবাদকৃত জমির তরমুজ। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি প্রণোদনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় এবার ৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছিল। উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার এবার সুগার কিং, ব্ল্যাক বেবি, সুইট ব্ল্যাক-২ ও মধুবালা জাতের অফসিজন তরমুজ চাষ করেছিলেন।
কৃষকেরা জানান, টানা বৃষ্টি ও প্রখর রোদের তাপে তরমুজের আকার ছোট হওয়ার পাশাপাশি পচে গেছে অনেক তরমুজ। বিঘাপ্রতি তাঁদের খরচ হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা, যেখানে ফলন থেকে আয়ের সম্ভাবনা ছিল ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। কিন্তু বিরূপ আবহাওয়ায় উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সংবেদনশীল এই ফসলে জমে থাকা পানির কারণে দেখা দিয়েছে মরণঘাতী উইল্টিং ও গোড়াপচা রোগের প্রকোপ। ৫ হেক্টর জমির ফলন্ত তরমুজ পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক ক্ষতি ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইমন মিয়া জানান, দিনরাত পরিশ্রম করে গড়ে তোলা ক্ষেত চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাওয়া তাঁদের জন্য বড় ধাক্কা।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা, উঁচু বেড তৈরি করা এবং নিয়মিত ছত্রাকনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহার করলে এই ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হতো। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রোগবালাই এড়াতে শস্য বিন্যাস বা ক্রপ রোটেশন পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি প্রণোদনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রযুক্তিগত পরামর্শের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের কাছে দ্রুত প্রণোদনা ও সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।