২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনা হবে: সড়কমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, বগুড়া
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
পরিবহন খাতের সব ধরনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
শনিবার বিকেলে বগুড়া শহরের চেলোপাড়ায় করতোয়া নদীর ওপর নবনির্মিত ‘শাহ ফতেহ আলী সেতু’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পিড ম্যানেজমেন্ট ও নিরাপদ সড়ক আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ ও সহযোগিতাও নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে তাঁর মন্ত্রণালয়। এতে মৃত্যুর সংখ্যাও কমে আসবে।
এর আগে বিকেল চারটায় বগুড়া সড়ক জোনের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, সড়ক–সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য এতদিন বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রংপুরে যেতে হতো। নতুন সড়ক জোন চালু হওয়ায় এই ভোগান্তি কমবে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) বগুড়া সড়ক জোনের আওতায় বগুড়া ছাড়াও গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জের সড়ক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার কাজ পরিচালিত হবে।
পরে বিকেল পাঁচটায় দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক শাকপালা পার্কের আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠনকাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
বগুড়ায় শিল্পপার্ক
এর আগে দুপুরে বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সরকারের বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বগুড়ায় শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিগত দিনে চাহিদা অনুযায়ী জেলাটির উন্নয়ন হয়নি।
বগুড়ার শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ৪০০ একর জমির ওপর একটি বিসিক শিল্পপার্ক তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বগুড়া সবার আবেগের কেন্দ্র। জরিপে দেখা গেছে, এ অঞ্চলের শিল্পের উন্নয়নে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শিল্প ও ব্যবসার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক শেখ রবিউল আলম বলেন, গত ২০ বছর বগুড়া বঞ্চিত হয়েছে। তবে বগুড়ার মানুষ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশ গঠনে তাঁর অবদান কোনো দিন ভুলে যাওয়ার নয়।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আতিকুর রহমান বাদলের সভাপতিত্বে অভিষেক অনুষ্ঠানটি হয়। সহসভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
অনুষ্ঠানে বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন এবং বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ টিটু, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বক্তব্য দেন।
দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।