EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিশেষ লেখা

বেনজীর এবং অর্থ পাচারকারীদের ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ

শুধু বেনজীর নন—বিগত ১৭ বছরে পাচার হওয়া লাখ লাখ কোটি টাকা কেন ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না, বিশ্লেষণে উঠে এলো পাঁচটি কারণ

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম

বেনজীর এবং অর্থ পাচারকারীদের ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালতে জামিন পাওয়ার পর মুক্তি পান, বাংলাদেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া এখনো অনিশ্চিত। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দুর্নীতির শিরোমণি পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ যে একজন দুর্বৃত্ত তা বাংলাদেশের সবারই জানা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগেই অর্থ পাচার এবং দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করলে, বেনজীর দেশত্যাগ করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বেনজীর বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গত ১২ জুন দুবাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩০ জুলাই কারামুক্ত হন সাবেক আইজিপি। 

বেনজীরের গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চেয়েছিল। এ লক্ষ্যে দুবাই পুলিশ এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বেনজীরকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে শুনানি হয়। পরে বেনজীরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়। 

সরকারের পক্ষ থেকে যদিও বলা হচ্ছে, তার জামিন বাতিল করে দেশে ফেরত আনার জন্য একটি ল’ ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুবাইয়ের আইন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা খুবই কম। বেনজীর একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার বিপুল অবৈধ সম্পদের তথ্য সবাই জানেন, কিন্তু তার পরও বেনজীরের মতো অর্থ পাচারকারীকে কেন ফেরত আনা যাচ্ছে না? শুধু বেনজীর একা নয়, বিগত ১৭ বছরে বাংলাদেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচার করে যারা বিদেশে বসে আরাম আয়েশে জীবনযাপন করছেন তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না কেন? কেন পাচার করা অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হচ্ছে না?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের দেশের আইন এবং অর্থ পাচার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হবে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থ পাচার নিয়ে তদন্তে একটি শ্বেতপত্র কমিটি গঠিত হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা)।’

আওয়ামী লীগের পতনের পরও অর্থ পাচার বন্ধ হয়নি। বরং, ইউনূস সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের পরিমাণ বেড়েছে। শুধু সুইস ব্যাংকেই জমাকৃত অর্থের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, বিগত ১৭ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে পারলেই বাংলাদেশের অর্থনীতি সহজেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

কিন্তু ইউনূস সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের হাঁকডাক শোনা গেলেও, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ড. ইউনূস নিযুক্ত গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নিয়ে বলেছিলেন, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পাচারকৃত কিছু অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হবে। কিন্তু বিদায়ের আগে তিনিই উল্টো সুরে কথা বলেন, তিনি বলেন, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে অনেক বছর সময় লাগবে।

বর্তমান সরকারও দায়িত্ব গ্রহণের পর পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং পাচারকারীদের ফেরত এনে শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে যথেষ্ট সফল। এমনকি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে?

[সৌজন্যে বাংলাদেশ প্রতিদিন]

আরও পড়ুন