ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষায় সরকার-ইউনিসেফের নতুন উদ্যোগ, উপকৃত হবে ৩৮ হাজার ৪০০ জন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু ও তরুণদের শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে এবং কর্মমুখী দক্ষতা গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফ। ‘আউট-অব-স্কুল শিশুদের জন্য বিকল্প শিক্ষার সুযোগ (Alternative Learning Opportunities for Out-of-School Children-ALO)’ শীর্ষক এ প্রকল্পের আওতায় আগামী তিন বছরে দেশের ৩৮ হাজার ৪০০ জন শিশু ও তরুণ-তরুণী শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় আসবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) এ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি গিলিয়ান মেলসপ। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও উইং প্রধান (জাতিসংঘ) এ কে এম সোহেল। এছাড়া ইআরডি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তিন বছর মেয়াদি (২০২৬-২০২৮) এ প্রকল্পের আওতায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৯ হাজার ২০০ জন বিদ্যালয়ত্যাগী শিশুকে বিকল্প মৌলিক শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী আরও ১৯ হাজার ২০০ জন তরুণ-তরুণীকে বাজার চাহিদাভিত্তিক কারিগরি ও কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য হলো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অন্তত ৬০ শতাংশ তরুণ-তরুণীকে চাকরি কিংবা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া, যাতে তারা টেকসই জীবিকা গড়ে তুলতে পারেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর (বিএনএফই) মাধ্যমে দেশের ৬৪টি উপজেলার ৯৬০টি শিক্ষা কেন্দ্রে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশ অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার। আর ইউনিসেফ প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ টাকা সমপরিমাণ কারিগরি সহায়তা দেবে, যা প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং মান নিশ্চিতকরণে ব্যয় করা হবে।
এ উদ্যোগটি ইউনিসেফের ‘স্কিলফো (SKILFO)’ পাইলট কর্মসূচির সফল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। ওই কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের ৮২ শতাংশ সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছিলেন।
প্রকল্পটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৪ নম্বর লক্ষ্য—সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ—অর্জনে সহায়ক হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ত্যাগ, শিশুশ্রম ও বাল্যবিয়ে হ্রাস এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি গিলিয়ান মেলসপ বলেন, এ উদ্যোগ বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু-কিশোরদের জ্ঞান, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, শিশুসুরক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করছে ইউনিসেফ। নতুন এ প্রকল্প সেই সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।