EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

সুনামগঞ্জে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে নৌ পরিবহন ধর্মঘট, স্থবির পাথর-কয়লা পরিবহন

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও জামালগঞ্জের নদীপথে চলছে অনির্দিষ্টকালের নৌ ধর্মঘট, বন্ধ পাথর-বালু-কয়লা পরিবহন

ডেইলি সান রিপোর্ট, সুনামগঞ্জ

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

সুনামগঞ্জে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে নৌ পরিবহন ধর্মঘট, স্থবির পাথর-কয়লা পরিবহন

চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীতে বন্ধ রয়েছে নৌযান চলাচল, ঘাটে অলস পড়ে আছে সারি সারি নৌকা। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার নদীপথে চলছে অনির্দিষ্টকালের নৌপরিবহন ধর্মঘট। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নামে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে নৌযান মালিক, শ্রমিক ও নৌ পরিবহন সমিতি একাত্মতা প্রকাশ করায় নদীতে নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে।

শুধু বিআইডব্লিউটিএ নয়, টোল-ট্যাক্স ও খাসকালেকশনের নামেও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। এর ফলে এই এলাকা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়া কয়লা, চুনাপাথর ও বালু পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে। তবে পরিস্থিতি সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

মঙ্গলবার থেকে তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের পাটলাই নদী, বাদাঘাট ইউনিয়নের যাদুকাটা নদী, বালিজুড়ী ইউনিয়নের রক্তি নদী এবং জামালগঞ্জ উপজেলার সুরমা নদীপথে কোনো ধরনের নৌযান চলাচল করছে না।

এর আগে, রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে বাদাঘাট ইউনিয়নের যাদুকাটা নদীর কুড়ের পাড় এলাকায় মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে নৌ পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় শ্রমিক, ব্যবসায়ী, নৌযান মালিক সমিতি ও স্টোন-বালু ব্যবসায়ী সমিতি একাত্মতা প্রকাশ করে।

শ্রমিক জামাল মিয়া জানান, নৌ পরিবহণ ধর্মঘটের কারণে নৌকা আসছে না, যার জন্য আমরাও বেকার হয়ে পড়েছি। পরিবার পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছি। কাজ না করলে সংসার চলাবো কি করে? কাজ একবারেই কমে গেছে।

নৌযান মালিক আবুল মিয়া জানান, আমি কয়লা, চুনাপাথর, বালু পরিবহন করি। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত চাঁদাবাজির কারণে নৌকা ঘাটে রাখা আছে। যাদের মাল পরিবহন করবো তারা ত খরচ বেশি দিবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদীপথে মাঝ নদী থেকে নৌকা আটকিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিআইডব্লিউটিএ, টোল-ট্যাক্স ও খাসকালেকশনের নামে চাঁদাবাজি চলছে। এই চাঁদাবাজি বন্ধে সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার লিখিত অভিযোগ, মানববন্ধন ও পরিবহন ধর্মঘটের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি।

ব্যবসায়ী নূর উদ্দিন বলেন, এসব নদীতে চলার পথে ছোট নৌকা নিয়ে চাঁদাবাজি চললেও দায়িত্বশীলরা তা বন্ধে ব্যর্থ হচ্ছেন। সুরমা নদীর লালপুর এলাকায় বিআইডব্লিউটিএর নামে বালু ও পাথর লোড-আনলোডের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনফুটে ২ টাকা ৮০ পয়সা হারে টোল আদায় করা হচ্ছে। এমনকি খালি নৌকা চলাচলের ক্ষেত্রেও ২ থেকে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়, যা দেশের অন্য কোথাও এ ধরনের টোল আদায়ের নজির নেই বলে দাবি করেন তিনি।

ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কামাল মিয়া জানান, যেসব ঘাটের কার্যত কোনো অস্তিত্বই নেই, সেখান থেকেও অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিআইডব্লিউটিএ বিগত বছরগুলোতে ৩৪ টাকার কম টোল নিলেও চলতি বছর তা বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়। পরে আন্দোলনের মুখে তা কমিয়ে ৩৫ টাকা করা হলেও এখন আবার ৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে, যার ফলে ব্যবসায়ীদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এই চাঁদাবাজির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক জানান, বিআইডব্লিউটিএর টোল নির্ধারণের বিষয়ে প্রশাসনের সরাসরি কিছু করার সুযোগ নেই, কারণ এটি একটি পৃথক কর্তৃপক্ষ। তবে খাসকালেকশন ও টোল-ট্যাক্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে টাকা আদায় এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন