EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

রূপগঞ্জে ডাইং কারখানার দূষণে জনজীবন বিপর্যস্ত

ডেইলি সান রিপোর্ট, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

রূপগঞ্জে ডাইং কারখানার দূষণে জনজীবন বিপর্যস্ত

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌর এলাকায় অবস্থিত রনি নিট কম্পোজিট ডাইং-এর বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণ, অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য নিঃসরণ ও সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কারখানার বর্জ্যে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে কৃষি, মৎস্য ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কারখানায় ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) থাকলেও তা নিয়মিত ব্যবহার না করে পাইপের মাধ্যমে অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য কৃষিজমি ও খালে ফেলা হচ্ছে। এতে দূষিত পানি আশপাশে ছড়িয়ে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মাছ মারা যাচ্ছে, ফসলের ক্ষতি হচ্ছে এবং দুর্গন্ধে ভোগান্তি বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষিকা রাহিমা বেগম রেনু বলেন, ডাইং কারখানার দূষিত পানিতে সড়ক ও বাড়িঘর জলাবদ্ধ হয়ে আছে। প্রতিবাদ করলে স্থানীয়দের হুমকি দেওয়া হয়। তিনি দ্রুত বর্জ্য নিঃসরণ বন্ধের দাবি জানান।

বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, রাসায়নিক বর্জ্যে খাল ও জলাশয়ের মাছ মারা যাচ্ছে। কৃষিজমিতে দূষিত পানি জমে থাকায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ার কারণে অনেকেই চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।

এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার অভিযোগ, পরিবেশগত নিয়ম না মেনে কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগের পর সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগে গত বছরের আগস্টে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কারখানার বর্জ্য পানির পাইপ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে এরপরও দূষণ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ।

নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ এইচ এম রাশেদ বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সদর দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ হোসেন বলেন, শিল্পবর্জ্য যথাযথভাবে পরিশোধন না করে পরিবেশে ফেললে জলজ প্রাণী, কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। তাই শুধু জরিমানা নয়, পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রনি নিট কম্পোজিট ডাইংয়ের জেনারেল ম্যানেজার নুরুল ইসলাম বলেন, কারখানার ইটিপি নিয়মিত চালু রয়েছে এবং বর্জ্য পানি পৌরসভার ড্রেনে ফেলা হয়। টানা বৃষ্টির কারণে ড্রেন উপচে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আশপাশের অন্য কারখানার পানিও সেখানে মিশছে। সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। রনি ডাইংয়ের বিরুদ্ধে দূষণের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে এবং বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন