EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

‘ও মা, আমাকে বাঁচান’— অপহৃত শিশুর নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ আদায়

হাবিবুর রহমান, টেকনাফ (কক্সবাজার) থেকে

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

‘ও মা, আমাকে বাঁচান’— অপহৃত শিশুর নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ আদায়
অ অ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অপহরণের চার দিন পর মুক্তিপণের বিনিময়ে রহমত আলী নামে এক শিশুকে ছেড়ে দিয়েছে অপহরণকারীরা। নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। ভিডিওতে শিশুটিকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা যায়, ‘ও মা, আমাকে মেরে ফেলতেছে, আমাকে বাঁচান। টাকা দেন।’

অপহৃত রহমত আলী উখিয়ার কুতুপালং ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ জুনায়েদের ছেলে। গত বুধবার (২২ জুলাই) ক্যাম্প থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। চার দিন পর মুক্তিপণ পাওয়ার পর অপহরণকারীরা তাকে ছেড়ে দেয়।

ক্যাম্পের বাসিন্দা রোহিঙ্গা আজমত উল্লাহ বলেন, অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিরা রহমতকে অপহরণ করে। পরে শিশুটিকে নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কত টাকা দেওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি।

আরেক রোহিঙ্গা আলী আহমদ বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে তারা এই ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। এখানে প্রায়ই অপহরণের ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু অপহরণের ঘটনা আরও বেড়েছে। মুক্তিপণ না দিলে অপহৃতদের সহজে ছাড়া মেলে না। অথচ অধিকাংশ রোহিঙ্গার পক্ষে বড় অঙ্কের মুক্তিপণ দেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মুক্তিপণ না পেলে অপহরণকারীরা শিশুদের হত্যা করে। আবার মুক্তিপণ পাওয়ার পরও হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি কুতুপালং ক্যাম্পের এলহাম নামে এক শিশুকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করেও হত্যা করা হয়েছিল। এসব ঘটনায় ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বেড়েছে।

অপহরণকারীদের পাঠানো একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রহমত আলীর হাত-পা বাঁধা। তার সামনে একটি লম্বা দা রাখা হয়েছে। ভিডিওতে তাকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা যায়, ‘ও মা, আমাকে মেরে ফেলতেছে। আমাকে বাঁচান, টাকা দেন।’

জানা গেছে, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণের পর ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এমন ভিডিও ধারণ করে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে থাকে অপহরণকারীরা।

উখিয়ার কুতুপালং ১১ নম্বর ক্যাম্পের ইনচার্জ (উপসচিব) মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পের ই-ব্লক থেকে অপহৃত রহমত আলী গত রবিবার অপহরণকারীদের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। যতদূর জানা গেছে, শিশুটির পরিবার বিষয়টি নিজেদের উদ্যোগেই সমাধান করেছে। এ বিষয়ে তার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বলেন, ক্যাম্পে সংঘটিত যেকোনো অপরাধের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অপহরণের ঘটনায় ভুক্তভোগী বা তাদের স্বজনরা অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন