সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানরা কী কী রাষ্ট্রীয় সুবিধা পান?
পদত্যাগের পরও সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানরা আমৃত্যু পেনশন, চিকিৎসা ও প্রটোকল পেয়ে থাকেন; তবে অভিশংসিত বা দণ্ডিতদের এই সুযোগ নেই
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
আইন অনুযায়ী পদত্যাগের পরও নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে বিশেষ সরকারি প্রটোকল ও সুবিধা পেয়ে থাকেন সাবেক রাষ্ট্রপতিরা। ছবি: সংগৃহীত
পদত্যাগের পরও সুযোগ-সুবিধা শেষ হয়ে যায় না দেশের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানদের। আইন অনুযায়ী, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও মৃত্যুর আগপর্যন্ত প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে অবসরভাতা, বাসভবন সুবিধা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং বিনামূল্যে বিশেষ চিকিৎসাসেবা পাবেন দেশের যেকোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি।
পদত্যাগের পর একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় থাকেন। আইনি বিধান অনুযায়ী, তিনি তাঁর শেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে আমৃত্যু মাসিক পেনশন পান। কোনো কারণে পেনশন না নিয়ে তিনি যদি এককালীন অর্থ বা আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) নিতে চান, তবে দায়িত্ব পালন করা প্রতি বছরের বিপরীতে এক বছরের অবসরভাতার সমপরিমাণ টাকা তুলতে পারেন। সাবেক রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর পরও এই সুবিধা একেবারে বন্ধ হয় না; তাঁর স্ত্রী বা স্বামী মূল ভাতার দুই-তৃতীয়াংশ হারে আমৃত্যু বিশেষ পারিবারিক ভাতা পেতে থাকেন।
রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেও তাঁদের সামাজিক ও দাপ্তরিক ব্যস্ততা একেবারে ফুরিয়ে যায় না। চিঠিপত্র আদান-প্রদান এবং ব্যক্তিগত কাজকর্ম সামলানোর জন্য তাঁরা সরকারি খরচে একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) এবং একজন সাহায্যকারী (অ্যাটেনডেন্ট) পান। এছাড়া দাপ্তরিক কাজের খরচ নির্বাহের জন্য প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের সরকারি তহবিলও তাঁদের জন্য বরাদ্দ থাকে।
বয়সের কারণে সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। আইনে বলা হয়েছে, একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তাঁর স্ত্রী সরকারি খরচে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমপরিমাণ চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। দেশের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও বিধি অনুযায়ী তাঁরা রাষ্ট্রীয় সহায়তা পান। যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাঁরা দেশের যেকোনো সরকারি যানবাহনে (রেল, বিমান বা স্টিমার) বিনামূল্যে ভ্রমণের পাশাপাশি কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্ট ব্যবহারের অধিকার পান। এছাড়া ঢাকার বাইরে সফরে গেলে দেশের যেকোনো সার্কিট হাউস বা সরকারি রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকার অধিকার রয়েছে তাঁদের।
অবসর জীবনে সমাজ ও রাষ্ট্রের সাথে সংযোগ বজায় রাখতে সাবেক রাষ্ট্রপতির বাসভবনে সার্বক্ষণিক একটি আবাসিক টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। এই ফোনের নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বিল রাষ্ট্র নিজে বহন করে।
রাষ্ট্রের এই সকল রাজকীয় সম্মান ও সুবিধা কিন্তু সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। আইন অনুযায়ী, কেউ যদি সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের দায়ে অভিশংসিত (ইমপিচড) হয়ে পদ হারান, তবে তিনি কোনো সুবিধা পাবেন না। এছাড়া অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকারী কিংবা নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানদের ক্ষেত্রেও এই আইন কার্যকর হয় না।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় দেশের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তির অবসর জীবনকে মর্যাদাপূর্ণ রাখা কেবল আইনি দায়িত্বই নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের নিজস্ব গৌরব ও সংস্কৃতিরই একটি অংশ।