EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মানব পাচার প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের বার্তা: রচনা লিখে পুরস্কার পেলেন ৩১ জন

পাঠ্যবই ও সচেতনতায় প্রবাসীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতের আহ্বান

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম

মানব পাচার প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের বার্তা: রচনা লিখে পুরস্কার পেলেন ৩১ জন

মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। ছবি: ডেইলি সান

অ অ

‘মানুষ বিক্রির জন্য নয়।’ নারায়ণগঞ্জের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহানের সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী এই মূলভাবই ফুটে উঠেছে দেশজুড়ে হাজারও শিক্ষার্থীর কলমে। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে আয়োজিত দেশব্যাপী রচনা প্রতিযোগিতায় সারা দেশের ৮৭০ জন শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে ৩১ জন বিজয়ী হিসেবে পুরস্কার ও সনদ লাভ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতায় ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থী নিলয় বিশ্বাস এবং রানারআপ হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফাহাদ হোসেন ফাহিম। ‘অষ্টম থেকে কলেজ’ ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কক্সবাজারের খুরুশকুল হাইস্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদ্রাতুন নাঈম তাকওয়া। যৌথভাবে প্রথম রানারআপ হয়েছেন টেকনাফের শহীদ আজিজুল হক বালিকা মাদ্রাসার সাদিয়া সালমা ও সাবরাং উচ্চবিদ্যালয়ের আরাফাত শাহীন কমল। দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে গাজীপুরের পিরুজালী আদর্শ বিদ্যালয়ের সেজুতি আক্তার আয়েশা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাহিত্যগবেষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, ‘এ দেশে পাচারকারীরা সফল হয়, কারণ আমাদের আর্থিক দারিদ্র্যের চেয়ে শিক্ষার দারিদ্র্য অনেক বেশি। যারা পাচারের শিকার হচ্ছেন এবং দুর্বিষহ জীবনের মুখোমুখি হচ্ছেন, এটা শুধু তাঁদের বিষয় নয়, গোটা জাতির বিষয়। পাচার প্রতিরোধের দায়িত্ব সবার। রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মাধ্যমে এই বার্তাগুলো সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। এটি দারুণ উদ্যোগ।’

ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান এবং সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান জানান, তরুণ প্রজন্মকে মানব পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতেই এই আয়োজন। পাঠ্যবইয়ে প্রবাসীদের অবদানের কথা উঠে না আসার বিষয়টি উল্লেখ করে ব্র্যাক কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্পৃক্ত করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে টেকনাফের শিক্ষার্থী আরাফাত শাহীন তাঁর এলাকায় মানব পাচার ও অপহরণের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। এছাড়া কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে ফিরে আসা মন্নান ছৈয়াল এবং কক্সবাজারের সারভাইভার অংঅংও জুয়েল নিজেদের নির্মম অভিজ্ঞতার কথা জানান।

আরও পড়ুন