তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই, খুলে দেওয়া হলো ৪৪টি জলকপাট
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, যে কোনো সময় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
হাসান উল আজিজ, লালমনিরহাট
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, যে কোনো সময় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে ফের বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটছে তিস্তাপাড়ের মানুষের।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এরই মধ্যে তিস্তা তীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে।
পানি বাড়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার রাজপুর, খুনিয়াগাছ ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা সোফিয়ার রহমান বলেন, নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং গ্রামীণ সড়কে পানি উঠতে শুরু করেছে। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যে কোনো সময় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে তারা আতঙ্কে রয়েছেন।
তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল ৬টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিস্তার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমিতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল যে কোনো সময় প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে পানির চাপ বাড়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদীতীরবর্তী উঁচু সড়কগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে বর্ষাকালে জরুরি মেরামতের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। অথচ আগেভাগে সংস্কার করা হলে বাঁধ আরও টেকসই হতো এবং নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো।
গোবর্ধন গ্রামের বাসিন্দা বশির উদ্দিন বলেন, পানির চাপ দেখে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন তারা। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া বাঁধ ভেঙে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বন্যার সময় নদীপাড়ের মানুষ হিসেবে তাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।
নদীপাড়ের আরেক বাসিন্দা আব্দুল জব্বার বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি ওঠানামা করছিল, তবে বুধবার পানি অনেক বেশি বেড়েছে। ইতোমধ্যে অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উজানের পানির প্রবাহ অব্যাহত থাকায় তিস্তার পানি আরও বাড়ছে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় বলেন, উজানের ঢলে বুধবার ভোর থেকে তিস্তা নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। তবে এখনো তা বিপৎসীমার সামান্য নিচে রয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।