EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়তে চায় সরকার: মাহ্দী আমিন

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:২৪ পিএম

তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়তে চায় সরকার: মাহ্দী আমিন

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, দেশের তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি ও উদ্যোক্তা সম্ভাবনা বিকাশে সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীতে ‘বায়লা ফিউচার সামিট’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে দেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েই চলতি বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের জন্য এমন একটি সমন্বিত পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, বন্ডেড সুবিধা সহজ হবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমবে এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস পাবে। অতীতে এসব ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও সরকার ধাপে ধাপে তা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রাজস্ব সংগ্রহ ও ব্যয়ের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমে বৈষম্য দূর করে গ্রাম ও শহরের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, অতীতে মেগা প্রকল্পের আড়ালে যে দুর্নীতির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি উৎপাদনশীল জনশক্তি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

মাহ্দী আমিন বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে হবে। তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে যেন কর্মসংস্থান কমে না যায়, সে বিষয়েও ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি।

সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সহজ করা হয়েছে। শুল্ক-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধি শিথিল করা হচ্ছে এবং রপ্তানি প্রণোদনা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা, সৎ উদ্যোক্তাদের নীতিগত সহায়তা দেওয়া এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে মুনাফা নিজ দেশে নেওয়ার প্রক্রিয়াও আরও সহজ করা হয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী, বড় অভ্যন্তরীণ বাজার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ। এই তিনটি সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে জ্বালানি নিরাপত্তা, বন্দর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ব্যবসাবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা সর্বোচ্চ সহযোগিতা পাবে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন নীতিতে তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নিশ্চিত করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।

আরও পড়ুন