মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর, আজও অমলিন সেই বেদনা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো আজ, মঙ্গলবার (২১ জুলাই)। গত বছরের এই দিনে প্রাণচঞ্চল শিক্ষাঙ্গন মুহূর্তেই পরিণত হয়েছিল শোক আর ধ্বংসস্তূপে। দুর্ঘটনায় পাইলট, এক শিক্ষিকা ও ২৮ শিক্ষার্থীসহ মোট ৩৬ জন নিহত হন। আহত হন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীসহ আরও অনেকে।
দুর্ঘটনার পর আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর দগ্ধদের চিকিৎসা চলে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর অনেকে সুস্থ হয়ে ফিরলেও তাদের শরীর ও মনে রয়ে গেছে সেই দিনের গভীর ক্ষত।
ঘটনার পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। প্রায় তিন মাসের তদন্ত শেষে ১৫০ জনের সাক্ষ্য এবং ১৬৮টি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ৩৩ দফা সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উড্ডয়নজনিত ত্রুটির কারণে প্রশিক্ষণের সময় পরিস্থিতি পাইলটের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ভবিষ্যতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকার বাইরে বিমানবাহিনীর প্রাথমিক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ পরিচালনা এবং বরিশাল ও বগুড়া বিমানঘাঁটির রানওয়ে সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়।
এ ছাড়া তদন্তে উল্লেখ করা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি রাজউকের বিল্ডিং কোড পুরোপুরি অনুসরণ করে নির্মিত হয়নি। প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিঁড়ি না থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাভিদ নাওয়াজ দীপ্তর চিকিৎসা দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হওয়া দীপ্তকে ৯৭ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। এ সময় তার ৩৬টি অস্ত্রোপচার এবং আটবার স্কিন গ্রাফটিং করা হয়। চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও দীর্ঘ চিকিৎসার সেই অধ্যায় আজও এই ট্র্যাজেডির এক অনন্য সংগ্রামের প্রতীক।
আগুনে পুড়ে কয়েকজন নিহতের মরদেহ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় প্রথমে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে।
প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। সোমবার দোয়া মাহফিল ও নিহতদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। আজ ট্র্যাজেডির দিনটি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানের সব শাখায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
উত্তরার দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন, এক মিনিট নীরবতা, দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও গার্লস গাইডের সদস্যরা অংশ নেবেন।
এক বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের স্বজন, আহত শিক্ষার্থী এবং মাইলস্টোন পরিবারের কাছে ২১ জুলাই এখনও শোক, বেদনা ও না-ভোলা এক বিভীষিকার দিন।