EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

কৃষি কার্ড প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিতের দাবি

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও কর্মপ্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:২৪ পিএম

কৃষি কার্ড প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিতের দাবি
অ অ

সরকারের কৃষি কার্ড প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং যৌক্তিক কর্মপ্রণোদনা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে প্রকল্পটির গুণগত বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে এবং প্রকৃত কৃষকদের কাছে সরকারি সেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কৃষিকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার কৃষি কার্ড প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রকৃত কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা, কৃষিঋণ, বীমা এবং অন্যান্য সরকারি কৃষিসেবা সঠিক উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে প্রকল্পটির মূল দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। কৃষকের বাড়ি বা খামারে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, ডিজিটাল এন্ট্রি এবং তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার মতো সময়সাপেক্ষ দায়িত্ব তাদেরই পালন করতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্গম এলাকায় চলাচল, দীর্ঘ সময় মাঠে অবস্থান, অনলাইনে তথ্য আপলোড, ইন্টারনেট ব্যবহার এবং মোবাইল ডিভাইস সচল রাখতে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে একদিকে ব্যক্তিগত ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে কাজের গতি ও মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতে, কৃষি কার্ড প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের স্বার্থে তাদের জন্য সরকারি উদ্যোগে প্রয়োজনীয় কর্ম-উপকরণ ও সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোন বা ট্যাব, পাওয়ার ব্যাংক, ইন্টারনেট ব্যয়, যাতায়াত ভাতা, মাঠে দীর্ঘ সময় কাজের জন্য দৈনিক বা খাবার ভাতা, বর্ষা মৌসুমে রেইনকোট বা মানসম্মত ছাতা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র বহনের জন্য ব্যাগ, তথ্য সংগ্রহের পরিমাণভিত্তিক যৌক্তিক সম্মানী বা কর্মপ্রণোদনা এবং মাঠপর্যায়ে কাজ শুরুর আগে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ।

তাদের ভাষ্য, এগুলো কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়; বরং একটি বৃহৎ ডিজিটাল সরকারি প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কর্ম-উপকরণ। এসব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তথ্য সংগ্রহের নির্ভুলতা ও কাজের গতি বাড়বে, একই সঙ্গে কৃষি কার্ড প্রকল্পের প্রতি কৃষকদের আস্থাও আরও সুদৃঢ় হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারের এই সময়োপযোগী উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও যৌক্তিক কর্মপ্রণোদনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। কারণ, একটি জাতীয় প্রকল্পের সাফল্য শুধু পরিকল্পনার ওপর নয়, বরং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী মাঠপর্যায়ের মানবসম্পদের সক্ষমতা ও প্রস্তুতির ওপরও নির্ভর করে।

আরও পড়ুন