ঠাকুরগাঁওয়ে সাবেক দুই এমপিসহ আট নেতার আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
ঠাকুরগাঁও জেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ আট নেতার নামে ইস্যুকৃত আটটি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হকের স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে এসব লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
আদেশে বলা হয়, Arms Act, 1878–এর ১৮(এ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ১৯(চ) ধারা অনুযায়ী জননিরাপত্তার স্বার্থে লাইসেন্সগুলো বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লাইসেন্স বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী প্রয়াত রমেশ চন্দ্র সেন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত দবিরুল ইসলাম, তার ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম (দুটি অস্ত্রের লাইসেন্স), যুবদল নেতা ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অরুণাংশু দত্ত টিটো এবং কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা ও হরিপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম শামীম ফেরদৌস টগর।
জেলা প্রশাসনের আদেশে প্রত্যেক লাইসেন্সধারীর লাইসেন্স নম্বর, অস্ত্রের ধরন এবং সিরিয়াল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা, যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশ এবং প্রচলিত আইন ও নীতিমালার আলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবস্থাপনায় সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, লাইসেন্স বাতিল হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত থাকবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম আইন ও সরকারি নির্দেশনা অনুসারে অব্যাহত থাকবে।