‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন’সহ তিন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’, জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) এবং ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।
একীভূত হচ্ছে বিনিয়োগ সেবা
মন্ত্রিসভার অনুমোদিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) কার্যক্রম সমন্বয় করে একটি কেন্দ্রীয় বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে।
নতুন আইনের আওতায় বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি, প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন এবং সরকারি সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করা হবে। পাশাপাশি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ জোরদার করা হবে।
আইনে অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও অন্যান্য শিল্পাঞ্চলকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা, ক্ষুদ্র পিপিপি প্রকল্পের অনুমোদন সহজ করা, অব্যবহৃত সরকারি সম্পদের উৎপাদনশীল ব্যবহার এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত সব সেবা একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার বিধান রাখা হয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে
মন্ত্রিসভা জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)-এরও খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। কৌশলপত্রের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে নিশ্চিত করা এবং কার্যকর চাহিদা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অন্তত ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা।
এ লক্ষ্যে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ, নেট মিটারিং, স্মার্ট গ্রিড, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস), সৌরচালিত সেচ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বায়ু ও জলবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং অবকাঠামো এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার প্রযুক্তি সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিশেষ তহবিল গঠন, সহজশর্তে অর্থায়ন, কর অবকাশ, কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থা এবং স্থানীয় শিল্পে প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকবে। কৌশলপত্র বাস্তবায়নে রিয়েল-টাইম অনলাইন মনিটরিং ড্যাশবোর্ড চালু এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি জাতীয় পলিসি কাউন্সিল গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
নতুন আমদানি নীতিতে আধুনিক বাণিজ্য ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি
মন্ত্রিসভা ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর খসড়াও অনুমোদন করেছে। নতুন নীতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলসির পাশাপাশি সেলস কনট্রাক্ট এবং ওপেন অ্যাকাউন্ট-এর মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।
নীতিতে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠার বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পুনঃরপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
এ ছাড়া প্রথমবারের মতো ‘প্রবাসী বাংলাদেশি’র সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করে তাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধনী যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানি সহজ করা হয়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্পে ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণ, খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অন্তর্ভুক্তি, ডব্লিউটিওর ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্ট বাস্তবায়নের উদ্যোগ, ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণার জন্য উন্নত প্রাণিজ জিনগত উপকরণ আমদানির সুযোগও নতুন নীতিতে রাখা হয়েছে।
সরকারের মতে, তিনটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হবে, ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ হবে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।