চিকিৎসক নাফিসা ধীপ্রার মৃত্যু: কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি, ময়নাতদন্ত করবে সিআইডি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর ধানমন্ডিতে চিকিৎসক নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এ অনুমতি দেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন আল-জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।
পুলিশ ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কার্যক্রমের স্বার্থে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়।
গত ৪ জুন চিকিৎসক নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তার স্বজন, বন্ধু ও সহপাঠীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রচারিত ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। তারা দাবি করেন, ধীপ্রা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।
স্বজন ও পরিচিতদের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে তিনি পারিবারিক জীবনে বিভিন্ন সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তাদের আরও অভিযোগ, ধীপ্রা তার স্বামী ডা. রহমত রশিদ সিয়াম, শাশুড়ি এবং স্বামীর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হন। মৃত্যুর আগে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা এবং খাবার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও করেন তারা।
মৃত্যুর দুই দিন আগে ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রা নিজের ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছিলেন।
এ ঘটনায় গত ১৬ জুন রাজধানীতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৪(ক), ১৯৩, ১৯৭, ২০১, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অবহেলাজনিত মৃত্যু, নির্যাতন এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের মাধ্যমে আলামত গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় ধীপ্রার স্বামী ডা. রহমত রশিদ সিয়াম, তার শ্বশুর বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা এবং ডা. আব্দুর রশীদের জামাতা ও ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট ইয়ার্কির সম্পাদক সিমু নাসেরসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।