জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: চিফ হুইপ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
প্রতিশোধপরায়ণ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও শাস্তির বিধান কার্যকর রেখে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
সোমবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর সহযোগিতায় 'দ্য এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স প্রিভেনশন অ্যান্ড রিড্রেস অ্যাক্ট, ২০২৬' এবং 'দ্য ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন অ্যাক্ট, ২০২৬'-এর খসড়া নিয়ে কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও দীর্ঘদিন অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তিনি প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। বরং দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব অনুযায়ী যে কেউ অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। শাস্তির উদ্দেশ্য প্রতিশোধ নয়, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বহু মানুষ স্বজন হারিয়েও ন্যায়বিচার পাননি। বাবা, ভাই কিংবা বোনের হত্যার বিচার পেতে অনেককে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে।
আইন সংস্কারের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা ও গঠনমূলক মতামতকে সরকার স্বাগত জানায়। প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালার সংস্কারের মাধ্যমে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা এবং জীবনমান উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্ব ও অবদানেরও তিনি প্রশংসা করেন।
পরামর্শ সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মুলার, ইউএনএইচসিএইচআরের মানবাধিকার কর্মকর্তা ইফতেখার সৈয়দ আলী, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের হেড অব অফিস লইস বারবার, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালী দয়ারত্নে, ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিংসহ কূটনৈতিক মিশন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।