EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

নতুন পে-স্কেলের গেজেট না হওয়ায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৬ এএম

নতুন পে-স্কেলের গেজেট না হওয়ায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা থাকলেও এখনো গেজেট প্রকাশ হয়নি। ফলে বেতন কত বাড়বে, কোন ধাপে কার্যকর হবে, ভাতা কীভাবে যুক্ত হবে এবং অবসরপ্রাপ্তরা কী সুবিধা পাবেন এসব বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সফটওয়্যারে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেলের গেজেট কার্যকর করার ঘোষণা দেন। তবে এখনো গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গেজেট না থাকায় নতুন পে-স্কেলের গেজেট অনুযায়ী বেতন কত বাড়বে, কত ধাপে বাড়বে, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ভাতা কবে কার্যকর হবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধা কীভাবে নির্ধারণ করা হবে—এসব বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় অধিকাংশ কাজ ম্যানুয়ালি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ প্রায় সব আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ফলে ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে হলে সফটওয়্যার কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত। বর্তমানে আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে। তবে কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকেই গণনা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাবেন।

সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ বলছেন, বাস্তবায়নের ঘোষণা এলেও গেজেট ছাড়া প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে না। বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিদিনই প্রশ্ন উঠছে—গেজেট কবে হবে, বেতন কত বাড়বে এবং অবসরপ্রাপ্তরা কী সুবিধা পাবেন।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকায় গণমাধ্যমের খবরের ওপর নির্ভর করছেন। অনেকেই প্রতিদিন সর্বশেষ তথ্য জানতে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন।

এদিকে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, এখন আর আগের মতো হাতে বেতন নির্ধারণের সুযোগ নেই। যদি ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হয়, তাহলে একই কর্মচারীর জন্য একাধিকবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভুলের ঝুঁকি বাড়বে।

তিনি বলেন, পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল এবং অবসরজনিত সুবিধা নির্ধারণেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পিআরএল শেষে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বেশি। কারণ পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়ন শেষ প্রাপ্ত বেতনের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হয়।

আব্দুল মালেকের প্রস্তাব, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা উচিত। পরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা ধাপে ধাপে কার্যকর করা হলে সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তরাও বৈষম্যের শিকার হবেন না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি নতুন বেতন কাঠামোর একটি রূপরেখা তৈরি করেছে। বর্তমানে এর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে বাজার পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপও জরুরি।

আরও পড়ুন