তিন বাহিনীর ১৫০ সাবেক কর্মকর্তার পদোন্নতি, পাচ্ছেন বিশেষ প্রণোদনা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে তিন বাহিনীর ১৫০ সাবেক কর্মকর্তা স্বাভাবিক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাচ্ছেন। মিলছে বকেয়া বেতন-ভাতা ও বিশেষ সুবিধা।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতি পাওয়া এবং বরখাস্ত হওয়া ১৫০ কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
একই সঙ্গে তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা, অন্যান্য আর্থিক সুবিধা এবং কয়েকজনকে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে।
বুধবার (১ জুলাই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে আদেশটি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত চাকরিতে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সুবিধাপ্রাপ্ত ১৫০ কর্মকর্তার মধ্যে সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বিমানবাহিনীর ১৪ জন রয়েছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমী, সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সামরিক সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আমিনুল করিম এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক বা অকালীন অবসর বাতিল করে বয়সসীমা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত চাকরি বহাল ধরে স্বাভাবিক অবসর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনেককে লেফটেন্যান্ট জেনারেল, মেজর জেনারেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও কর্নেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
ফলে তারা সংশ্লিষ্ট পদমর্যাদায় চাকরির মেয়াদ পর্যন্ত বকেয়া বেতন-ভাতা এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন।
এ ছাড়া কয়েকজন কর্মকর্তাকে এককালীন ৩০ লাখ, ৫০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। কারও জন্য সরকারি বা বাহিনীর ব্যবস্থাপনায় প্লট বা ফ্ল্যাট এবং বয়স ও যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পদায়নের সুযোগও রাখা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ৩ মে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ এবং তিন বাহিনীর সদরদপ্তরের মতামতের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।